মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করার কারণে ২০১৮ সাল থেকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অবৈধ অর্থায়ন ওয়াচডগের ধূসর তালিকায় রয়েছে।
যা দেশটির প্রবৃদ্ধি উন্নয়ন সূচকে (জিডিপি) মারাত্বক প্রভাব ফেলছে।
অবশ্য এ থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে তারা।
গত জানুয়ারির শেষ দিকে, দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিকে দেয়া ব্রিফিংকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেছিলেন, অর্থনৈতিক বিষয়ক অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) আসন্ন বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
গত ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এফএটিএফের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেখানে বাধ্যতামূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাকিস্তান সরকারের অগ্রগতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা।
তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী জুনে ওয়াচডগের পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় থাকতে হবে।
এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এফএটিএফের প্রেসিডেন্ট মার্কাস প্লেয়ার বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করার ব্যবস্থায় কিছু ঘাটতি রয়েছে।
ধূসর তালিকা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার জন্য ২৭টি অ্যাকশনের প্লানের মধ্যে ইসলামাবাদকে আরো তিনটি পূরণ করতে হবে।
তাদেরকে এগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ করছি।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান তাদের পার্শ্ববর্তী আফগানিস্তান ও ভারতে সন্ত্রাসবাদ তৈরি, আশ্রয়, অর্থায়ন ও রপ্তানি করে আসছে।
দেশটির নাম সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে ধূসর তালিকায় অন্তভুক্ত হয়।
এর কয়েক বছর পর নাম প্রত্যাহার করা হলেও ২০১২ সালে আবারও তাদের সেখানে যুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের নাম তালিকায় থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
সর্বশেষ ২০১৮ সাল থেকে এখন অবধি তারা সেই তালিকায় রয়েছে।
গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধূসর তালিকার থাকার ফলে তাদের জিডিপিতে ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে।
এর মধ্যে ২০১২-২০১৫ সালেই ক্ষতি হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন।