হংকংভিত্তিক বিমান সংস্থা ক্যাথে প্যাসিফিক গত দুই দশকে তাদের হংকং হাব থেকে ১৬টি দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ করেছে। এসব রুটের কয়েকটি কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাতিল করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ক্যাথে প্যাসিফিকের যাত্রী পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত প্রকাশিত ফ্লাইট সূচি তুলনা করে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পর্যালোচনাটি শুধু হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত দীর্ঘপথের যাত্রীবাহী রুটকে বিবেচনায় নিয়েছে। এতে দেখা যায়, ক্যাথে প্যাসিফিকের দীর্ঘপথের নেটওয়ার্ক সময়ের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক যে গন্তব্যটি ক্যাথে প্যাসিফিকের নেটওয়ার্ক থেকে বাদ পড়েছে, সেটি অস্ট্রেলিয়ার কেয়ার্নস। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এ রুটে মৌসুমি ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছিল বিমান সংস্থাটি। তবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য প্রকাশিত সূচিতে কেয়ার্নসের কোনো ফ্লাইট রাখা হয়নি।
ক্যাথে প্যাসিফিকের বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্যান্য দীর্ঘপথের গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের জেদ্দা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, পাকিস্তানের করাচি, রাশিয়ার মস্কো, কাতারের দোহা, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, জার্মানির ডুসেলডর্ফ, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন, বাহরাইন, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন, মালদ্বীপের মালে, লন্ডনের গ্যাটউইক, যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়ার্ক ও ওয়াশিংটন ডুলেস এবং ইসরায়েলের তেল আবিব।
এসব রুট বন্ধের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ মহামারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পর্যালোচনা অনুযায়ী, মোট বাতিল হওয়া রুটের প্রায় ৪০ শতাংশ ২০২০ সালে বন্ধ করা হয়েছিল। মহামারির সময় আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যাপক ধস নামায় বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন তাদের রুট নেটওয়ার্ক, উড়োজাহাজের ব্যবহার এবং বহর পরিচালনা নতুন করে মূল্যায়ন করে। ক্যাথে প্যাসিফিকও এর বাইরে ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডুলেস রুটটিও ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্যাথে প্যাসিফিক এ রুটে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। এয়ারবাস A350 উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত রুটটি দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে কোনো গন্তব্যে ক্যাথে প্যাসিফিকের নিজস্ব ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলেও যাত্রীরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন না। বিমান সংস্থাটির জোটসঙ্গী ও কোডশেয়ার অংশীদারদের মাধ্যমে এসব গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুট নেটওয়ার্ক পরিবর্তন সাধারণত যাত্রী চাহিদা, পরিচালন ব্যয়, উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা, বাজার পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক ভ্রমণ প্রবণতার ওপর নির্ভর করে। ফলে দীর্ঘদিনের কোনো রুট বন্ধ হলেও ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি অনুকূল হলে তা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।