জনশক্তি রফতানির গতি-প্রকৃতি

বাংলাদেশে প্রবাসী জনশক্তির বেশিরভাগই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কাজ করছে। এর পাশাপাশি বাহরাইন, কাতার, জর্দান, লেবানন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রুনাই, মরিসাস, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও ইতালিসহ অন্যান্য দেশেও কাজ করছে। তবে ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট জনশক্তি রফতানি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মোট জনশক্তির ৭০ ভাগ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করছে। ২০০৬ সালে সৌদি আরবে যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৩, সেখানে ২০১৫ সালে দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ২৭০। অর্থাৎ প্রথম কয়েকবছর জনশক্তি বৃদ্ধি পেলেও, পরে তা কমে আসে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২ লাখ ৪ হাজার ১১২ ও ১ লাখ ৩২ হাজার ১২৪। কিন্তু ২০০৯ সাল হঠাৎ করে কমে যায়। আর কমে যাওয়ার প্রবণতায় খুব বেশি আশাপ্রদ ছিল না । ২০০৯ সালে ১৪ হাজার ৬৬৬। ২০১০ সালে আবার এর অর্ধেকে নেমে আসে । অর্থাৎ এ সময়কার জনশক্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬৯। পরের বছরে আবার এর দ্বিগুণ হয়। এ সময় জনশক্তির পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৯তে দাঁড়ায় । পরের বছরে অবশ্য আরো কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ২৩২ । কিন্ত পরবর্তী দু’বছর আবার কমে যায়। তবে ২০১৫ সালে আবার ঘুরে দাঁড়ায়। যেখানে জনশক্তির পরিমাণ হয় ৫৮ হাজার ২৭০।

কুয়েতে জনশক্তির রফতানির ২০০৬ সালে বিশাল হলেও, তা পরবর্তী বছরগুলোতে ধস নামে। ২০০৬ সালে জনশক্তির রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৭৭৫। কিন্তু পরের বছরে তা একবারে ৪ হাজার ২১ তে নেমে আসে। ২০০৮ থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে আরো খারাপ অবস্থা হয়। এ সময় জনশক্তি রফতানির পরিমাণ মাত্র ৩১৯। এর জের ২০১৩ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে। তবে ২০১৫তে এসে আবার ঘুরে দাঁড়ায়। এ সময় জনশক্তি রফতানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৪৭২।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০০৬ থেকে একবারে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভালোই অবস্থা যায়। কিন্তু ২০১ তে এসে কিছুটা থমকে যায়। তবে ২০১ তে এসে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ২০০৬ সালে জনশক্তি রফতানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২০৪। ২০০৮ তো একবোরে বাম্পার। এ সময় জনশক্তির পরিমাণ ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫।

বাহরাইনে ২০০৬ সালে ১৬ হাজার ৩৫ থেকে শুরু। পরের বছরগুলোতে কিছুটা ওঠানামা করলেও, ২০১৩ তে এসে বেশ সফলতা দেখতে পাওয়া যায়। এ সময় জনশক্তির রফতানির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার ১৫৫।

ওমানে ২০০৬ সালে ছিল মাত্র ৮ হাজার ৮২। কিন্তু পরের বছরগুলোতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরের বছরে একবারে দ্বিগুণ। যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৪৭৮। পরের বছরে তো একবারে বাম্পার। এ সময় জনশক্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫২ হাজার ৮৯৬। ২০১১ সাল থেকে যেন ম্যাজিক। এ সময় জনশক্তির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়াতে থাকে। ২০১১ সালে জনশক্তির পরিমাণ ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৫। পরের বছরগুলোতে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। বাড়ছে শুধু বাড়ছে।

মালয়েশিয়ায় ২০০৬ সালে ২০ হাজার ৪৬৯ দিয়ে শুরু। কিন্তু এরপর দু’বছর বাম্পার। ২০০৭ সালে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২০১। ২০০৮ সালে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৬২। কিন্তু এরপর থেকে কমতে শুরু করে। কিন্তু ২০১৫ সালে আবার কিছুটা বৃদ্ধি পায়।

সিঙ্গাপুরে জনশক্তির যেন একটা ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। ২০০৬ সালে যা দিয়ে শুরু, ২০১৫ সালে তার গতি পায়। ২০০৬ সালে ছিল ২০ হাজার ১৩৯। ২০১৫ সালে তা দাঁড়ায় ৫৫ হাজার ৫২৩। অর্র্থাৎ প্রতিবছর প্রবৃদ্ধি ছিল । কাতার ও লেবাননের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতায় লক্ষ্য করা যায়। অন্যান্য দেশে ২০০৬ সালে যা ছিল ২০১৫তে এসে তার গতি খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন ২০০৬ সালে অন্যান্য দেশে জনশক্তি রফতানির পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৪৬৭। ২০১৫তে এসে তা দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ২০৫।

২০০৬ সাল থেকে যদি মোট জনশক্তির রফতানির পরিমাণ লক্ষ্য করা যায় তাহলে প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। ২০০৬ সালে মোট রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫১৬। ২০১৫ তে এসে তা দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১। ২০০৬ সালে মোট রফতানির হার ছিল সবচেয়ে কম লেবানন, ওমান, কাতার। এই দেশগুলো ২০১৫তে এসে বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি দেখায়।

Comments (0)
Add Comment