মুহাম্মদ একে আজাদ এর কবিতা : মুছাপুর দিঘি/(শুকনা দিঘি)

নদীর বুকে জেগে উঠল
বড় একট দ্বীপ
বালির ঢিবি ছিল বলে
দ্বীপটির নাম হল সেন্ডউইপ।

চারিদিকে নদী ছিল
জনবসতি নাহি হল,
দিলাল রাজা খবর পেল
নতুন একটা দ্বীপ জাগিল।

রাজা মনঃস্থির করিলেন
এখানে আবাসন গড়িলেন,
রাজত্ব আর প্রজা নিয়ে কাটাচ্ছিলেন দিন
এভাবেই হল সেথায় জনবসতির ভীড়।

এই দ্বীপের শ্যামলীমায়
হৃদয় তাহার বড়ই জুড়ায়
একদিন তিনি চিন্তা করলেন
কিছু স্মৃতি রেখে যাবেন।

আমার কয়জন মেয়ে আছে
তাদের নামে কিছু করতে হচ্ছে
লোকে যাতে মনে রাখে
সারা জীবন তাদের নাম ধরে ডাকে।

মসজিদ একটা গড়লেন তিনি
নাম রাখিলেন শাহাবানি
সে যে তাহার নয়নের মনি।

রাজা চিন্তা করে দেখতে পেল
পানি পানের সমস্যা থেকে গেল
পানি পানির সমস্যা সমাধানে
করে ফেললেন দিঘি খননে।

মুছাবিবি রাজার আরেক মেয়ে
দিঘির নাম হল তার নামে
মুছাবিবির দিঘি মুছাপুরে
সদর থেকে একটু দুরে।

দিঘিকে নিয়ে গল্প আছে
শুনেছি তা আমার দাদার কাছে।
দিবা যখন রাত্রি হল
যে যার ঘরে ফিরে গেল।

পরদিন সকাল বেলায়
যে যার জমিতে গেলেন ঘোলায়
গিয়ে দেখে অবাক কান্ড একি?
এইতো এক মস্ত দিঘি।

এক রাত্রিতে মাটি কাটি
কে কাটাল এই দিঘি?
দিলাল রাজাই এই কাজ করল
সবাই তা বুঝতে পারল।

দিঘির ভিতর স্বর্ণের নৌকা
স্বপ্নের মধ্যে দিত দেখা
বাস্তবতে দেখা যায়না
স্বর্নের মধ্যে যেন আয়না।

এলাকার কোন অনুষ্ঠানে ক্রোকারিজের
প্রয়োজনে এলাকার লোকে লিষ্টে করে
রাত্রিতে রেখে আসত দিঘির পাড়ে
হাড়ি পাতিল পেয়ালা আর জামে
নৌকাটি হাজির হত সন্তর্পনে ।

গভীর রাতে হঠাৎ এসে
নৌকাটি রেখে যেত কুলে ঘেষে
একদিন এক বুড়া লোকটি
রেখে দিল লবনের বাটি।

স্বপ্নে দেখালেন এলাকার মুরব্বীকে
আমার বাটি নাহি দিলে
সত্যি আমি যাব চলে।

স্বপ্নের কথা সত্যি করে
দিঘির একটি পাড় ছিরে
নৌকাটি সত্যি একদিনে গেল চলে
দিঘি নিয়ে এই কির্তী
বিশ্বাস করেন ঐ জনবসতি।

উত্তর পাড়ের অংশ ছিড়ে
নৌকা যেদিন গেল চলে
সেদিন থেকে পানি শুন্য হল
শুকনা দিঘি বলে সবাই চিনল।

কবি : মুহাম্মদ একে আজাদ, এম কম ফাইন্যান্স (চবি)
পুলিশ কমিউনেিকশন অফিসার নিউইর্য়ক পুলিশ ডির্পাটমেন্ট

প্রকাশ: জুলাই ১৯,২০২১, নিউইর্য়ক, ইউএসএ

 

Comments (0)
Add Comment