কাল থেকে খুলছে কক্সবাজার ও পাহাড় পর্যটন কেন্দ্র

আগামীকাল থেকে খুলছে কক্সবাজার ও পাহাড় পর্যটন কেন্দ্র। এই উপলক্ষ্যে কক্সবাজারের হোটেল মোটেল মালিকরা প্রস্তুতি শুরু করেছে। হোটেল মোটেল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে হোটেল কর্মীদের কাজ বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। সমুদ্র তীরে চেয়ার বসানোও শুরু করেছে হোটেল মালিক ও সংশ্লিস্ট ঠিকাদার কোম্পানীগুলো।

এতে পর্যটন স্পট সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পর্যটন কেন্দ্র খোলার সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা। তবে মাস্ক পরিধান ছাড়া পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। পর্যটকদের অবশ্যই মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

আমাদের কক্সাবাজার প্রতিনিধি জানান,  সাগর, নদী, পাহাড় আর সবুজে ঘেরা এক অপরূপ সৌন্দর্যের শহর কক্সবাজার। করোনা মহামারী সবকিছু থামিয়ে দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারের পর্যটনের দরজা খুলছে। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কক্সবাজারে ভিড় করেছেন হাজারো পর্যটক।
দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে সারা বছরই থাকে পর্যটকদের আনাগোনা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে অন্যান্য পর্যটন স্থানের মতো কক্সবাজারেও ব্যবসায় মন্দাভাব শুরু হয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশে গত পয়লা এপ্রিল বন্ধ হয় কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউজ। সেই সাথে সৈকতসহ সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে আসে নিষেধাজ্ঞা। তবে আগামীকাল ১৯ আগস্ট থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এরপর থেকেই দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থাকা হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউজসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধোয়ামোছা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ নানা প্রস্তুতি চলছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানালেন, পর্যটন খাতকে ঝুঁকিমুক্ত করতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত সবাইকে সরকারের দেয়া শর্ত মানতে নির্দেশনা দেয়ার কথা জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু সুফিয়ান।
১৯ তারিখের পর পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ কক্ষ ভাড়া দিতে পারবেন হোটেল মোটেল মালিকরা। সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠান চালুর জোর প্রস্তুতি চলছে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান- পাহাড়,ঝিরি,ঝরণা,অরণ্য ও সবুজ জনপদ খাগড়াছড়ি। করোনায় ৫ মাস ধরে বন্ধ জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় পর্যটন খাতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বেকার হয়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ। করোনা সংক্রমণ কমে আসায় সারাদেশের মতো খাগড়াছড়ির সব পর্যটন কেন্দ্র খুলছে কাল থেকে। পর্যটন কেন্দ্র খোলার সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা।

আগত পর্যটকদের মানতে হবে স্বাস্থ্য বিধি। মাস্ক পরিধান ব্যতিত পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না, পর্যটন কেন্দ্র সমূহের প্রবেশ মুখে থাকবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সাবান দিয়ে পর্যটকদের হাত জীবাণুমুক্ত করতে হবে। অসুস্থ অবস্থায় পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ করা যাবে না। এছাড়া হোটেল কক্ষে পর্যটকদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা রয়েছে।

খাগড়াছড়ির প্রধান আর্কষণ আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা ও কোকোনাথ ত্রিপুরা জানান- খাগড়াছড়ি আলুটিলা,রিছাং ঝরণা ,ঝুলন্ত ব্রিজসহ সব পর্যটন কেন্দ্র ৫ মাস বন্ধ ছিল। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামীকাল ১৯ আগস্ট থেকে পর্যটন কেন্দ্র খুলছে। এখানে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক ছাড়া কোন পর্যটক পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। পর্যটকদের বরণে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

খাগড়াছড়ির আবাসিক হোটেল গাইরিং এর তত্ত্বাবধায়ক প্রান্ত ত্রিপুরা জানান ,আমাদের হোটেল প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র খোলায় ব্যবসা আবারো চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মানতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ইউনিট ব্যবস্থাপক এ কে এম রফিকুল ইসলাম জানান ,পর্যটন কর্পোরেশনের গাইডলাইন অনুযায়ী পর্যটকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হোটেলের প্রবেশমুখে ও প্রতিটি কক্ষে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী রাখা হয়েছে।
কাপ্তাই

কাপ্তাই প্রতিনিধি জানান- সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী আগামী কাল বৃহস্পতিবার থেকে কাপ্তাই উপজেলার সকল পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সকল পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেয়ার সংবাদে ভ্রমণ পিপাসুদের মনে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। কাপ্তাইয়ের লেকশোর পিকনিক স্পট, লেক ভিউ আইল্যান্ড, জুম রেস্তোরা, প্রশান্তি পার্ক, বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্র ও ফ্লোটিং প্যারাডাইসসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় এসব বিনোদন কেন্দ্রের সাথে জড়িত মালিক-কর্মচারীরা অর্থে সঙ্কটে পড়েন। তবে কাল থেকে বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেয়ার সংবাদে সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

Comments (0)
Add Comment