অদক্ষতা ও দূর্নীতির কারণে বিমানবন্দর উন্নয়নের প্রকল্প একের পর এক বাতিল হচ্ছে

দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর উন্নয়নের জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো একের পর এক বাতিল হচ্ছে কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও দূর্নীতির কারনে। এমনকি প্রকল্পের ডিজাইন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ডিজাইনও বাতিল করতে হচ্ছে। অথচ এসব কাজে সরকারের বরাদ্দ করা অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে। দেরীতে কাজ করার ফলে মার্কিন ডলারের উচ্চমূল্যে সরকারের কয়েক’শ কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী এবং ওসমানী বিমানবন্দরের এসব প্রকল্প এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের তিনটি অভ্যন্তরিন তিনটি বিমানবন্দরের রানওয়ের মান উন্নয়নের জন্য তিনটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়। এগুলো হচ্ছে- যশোর, সৈয়দপুর এবং রাজশাহী বিমানবন্দও রানওয়ে সারফেস অ্যাসফল্ট কনক্রিট ওভারলেকরন প্রকল্প। নানা ধরনের অনিয়মের কারনে এই তিনটি প্রকল্পই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটি বাতিল করে।

বিষয়টি গত ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করে যে কর্মকর্তা এসব অনিয়মের সাথে জড়িত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এজন্য সাতদিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকেই পুনরায় টেন্ডার আহবানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রকল্পগুলোর সদস্যসচিব ছিলেন হাবিবুর রহমান।

এদিকে, সিলেটের হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারনের কাজেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এই প্রকল্পের ডিজাইন তৈরী করা হয়েছিলো আগেই। কিন্তু কাজ শুরুর আগে ড্রইং ডিজাইনের ত্রুটি ধরা পড়ে। ডিজাইনটি করতে সিভিল এভিয়েশনের খরচ হয়েছে সাড়ে ২৫ কোটি টাকা।

সূত্র জানিয়েছে, কার্যাদেশ এর শর্ত অনুযায়ী সর্বশেষ যিনি বিল প্রদান করবেন তিনিই ড্রইং ডিজাইন বুঝে নেবেন। ডিজাইনটি তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বুঝে নিয়ে পরামর্শককে বিল প্রদান করেন। ২০১৯ সালের ৩০জুন তিনি পৃথক তিনটি চেকের মাধ্যমে এ বিল প্রদান করেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অদক্ষতা দূর্নীতির কারনে নতুন কওে ডিজাইন সংশোধনের জন্য সরকারের ৭০ কোটি টাকা খরচ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নেও দেড় থেকে দুই বছর বিলম্ব হবে।
এছাড়া নির্মান কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত আরো অন্তত: দুই’শো কোটি টাকা খরছ হবে।  এদিকে ড্রইং ডিজাইনে ত্রুটির দায়-দায়িত্ব নির্ধারনের জন্য মন্ত্রনালয় থেকে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি।

এদিকে, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে  প্রকল্প বাস্তবায়নেও নানা ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রকল্পের সদস্য সচিবও ছিলেন হাবিবুর রহমান। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটি এসব অনিয়ম ও দূর্নীতি তদন্ত করতে আইএমইডিকে নির্দেশ দেয়। আইএমইডি এ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়ার পর ওই দরপত্র বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহবান করে।
এই অনিয়মের জন্য মন্ত্রনালয় কিংবা সিভির এভিয়েশনের কারোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। বরং আগের কর্মেও সাথে জড়িত হাবিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে পুনরায় টেন্ডার আহবান করে। এর আগে ২০০৯ এবং ২০১১ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প কাজের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন হাবিবুর রহমান। নানা অনিয়মের কারনে হাবিবুর রহমানকে সেসময় এই পদ থেকে অপসারন করা হয়। দীর্ঘদিন পরে তাকে আবার উক্ত প্রকল্পের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment