ডেল্টা এয়ারলাইন্সে পাইলট সংকট, বাতিল শত শত ফ্লাইট

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ডেল্টা এয়ার লাইনস সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ফ্লাইট বাতিল, পাইলট সংকট এবং পরিচালনাগত সমস্যার কারণে চাপে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ডেল্টা এয়ার লাইনস সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ফ্লাইট বাতিল, পাইলট সংকট এবং পরিচালনাগত সমস্যার কারণে চাপে পড়েছে। একসময় সময়নিষ্ঠতা ও নির্ভরযোগ্য সেবার জন্য ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত এয়ারলাইনটি এখন সেই সুনাম ধরে রাখতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কর্মী নিয়োগ, পরিচালন কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তনের মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে স্বল্পমাত্রার আবহাওয়াজনিত বিঘ্ন দেখা দিলেও ডেল্টা শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারলাইনগুলো তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সক্ষম হলেও ডেল্টার অপারেশন বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে।

ডেল্টার ফ্লাইট অপারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান গাম জানিয়েছেন, বর্তমানে এয়ারলাইনটির মোট ফ্লাইট বাতিলের প্রায় ৩৫ শতাংশের পেছনে পাইলট সংকট দায়ী। অথচ ২০২৪ সালে এই হার ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। তিনি বলেন, নতুন সময়সূচি ও জনবল ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে একটি ফ্লাইটের জন্য প্রয়োজনীয় পাইলট খুঁজে পেতে অনেক সময় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী পাইলটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে গত বছর অতিরিক্ত ফ্লাইট গ্রহণে সম্মত পাইলটের হার ছিল ৩৭ শতাংশ, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ২ শতাংশে। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প পাইলট পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডেল্টা পাইলট ইউনিয়নের সভাপতি এরিক ক্রিসওয়েল জানিয়েছেন, নিয়োগ কার্যক্রম ধীরগতির হওয়ায় ২০২৬ সালের শুরুতে এয়ারলাইনটির প্রায় ৮০০ জন পাইলটের ঘাটতি থাকবে। ২০২৫ সালে ডেল্টা মাত্র ৫০০ জন নতুন পাইলট নিয়োগ দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। একই সময়ে আমেরিকান এয়ারলাইন্সইউনাইটেড এয়ারলাইন্স তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পাইলট নিয়োগ দিয়েছে।

ডেল্টার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এড বাস্টিয়ান বলেন, নতুন শ্রমচুক্তির আওতায় পাইলটদের সময়সূচি ও পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ফলে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ত মৌসুম সামনে রেখে ডেল্টার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ড্যান জাঙ্কি জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশের বেশি জনবল বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কিছু নির্ধারিত ফ্লাইট কমানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে এয়ারলাইনটি। এর ফলে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হলে ধারাবাহিক ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি কমবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডেল্টা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এয়ারলাইনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক অপারেশনাল সংকট সেই সুনামকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নতুন নিয়োগ, উন্নত জনবল ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর ফ্লাইট পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Comments (0)
Add Comment