বিমানবন্দর সড়কে ভয়াবহ যানজট, ৮ ঘণ্টা পর বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের অবসান

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। টানা প্রায় আট ঘণ্টা পর এই সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়ে গতকাল স্থবির হয়ে যায় রাজধানীর উত্তরা-বিমানবন্দর সড়কে যানবাহন চলাচল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকেও গাড়ির চাকা ঘুরাতে পারছিলেন না চালকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। পরে মেশিন দিয়ে রাস্তার পানি সেচে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এমনিতেই এই সড়কে যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী। তার ওপর রোববার ভোররাত থেকে বৃষ্টি হওয়ায় তা চরম আকার ধারণ করেছে। উন্নয়ন কাজের কারণে রাস্তায় খোঁড়া গর্তে বৃষ্টির পানি ঢুকে তা মরণফাঁদে রূপ নেয়।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বর এলাকায় প্রায় হাঁটুপানি জমে যায়। এতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বনানী থেকে বিমানবন্দর এলাকায় কেউ তিন ঘণ্টা, কেউবা চার ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ পাম্প মেশিন বসিয়ে রাস্তা থেকে বৃষ্টির পানি সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।

এ পরিস্থিতির জন্য বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। এ দিকে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি আটকে থাকায় এর প্রভাব পড়ে গোটা মহানগরীতে। প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই দেখা দেয় যানজট।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল প্রায় থমকে যায়। ঢাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার দু’টি পথেই ছিল তীব্র যানজট। সেই সাথে সড়কের মোড়গুলোতে ছিল কাজে বের হওয়া মানুষের ভিড়। এ কারণে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটাও দায় হয়ে পড়ে। যানজটের কারণে গাড়িতে না উঠে অনেকে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। অনেকে যাত্রীই দাঁড়িয়ে থাকা বাস থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন।
আবদুল্লাহপুর থেকে ঢাকামুখী সড়কের উত্তরা, এয়ারপোর্ট, খিলক্ষেত, বিশ্বরোড, বনানী, কুড়িল প্রগতি সরণি জুড়ে ছিল যানজট। অন্য দিকে গাজীপুরগামী সড়কে বনানী, বিশ্বরোড, খিলক্ষেত, কাওলা, এয়ারপোর্ট, উত্তরা, আবদুল্লাহপুর ছাড়িয়ে যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলতে থাকে এ অবস্থা। পরে মেশিন বসিয়ে স্থবির সড়কের পানি সরানোর কাজ শুরু করে ট্রাফিক পুলিশ। তাতে কিছু গাড়ি চলাচল করতে পারলেও তা স্বাভাবিক ছিল না।
আজমপুর থেকে মোহাম্মদপুরের উদ্দেশে বাসে ওঠা যাত্রী নবীন বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় আজমপুর থেকে বাসে ওঠেন তিনি। কিছু দূর যেতে বাস থমকে যায়। তিন ঘণ্টা বসে থাকার পর বাসটি জসীমউদ্দীন বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। অথচ এটুকু রাস্তা যেতে সময় লাগার কথা সর্বোচ্চ ৫-৬ মিনিট। এর মধ্যে বাসে থাকা যাত্রীরা হাঁসফাঁস করতে থাকেন। পরে বাস থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেন অনেক যাত্রী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, ভোরের বৃষ্টিতে উত্তরার সড়কের বেশ কিছু এলাকা ডুবে যায়। উন্নয়নমূলক কাজের কারণে সড়কের অনেক জায়গায় খানাখন্দ, গর্ত তৈরি হয়। বৃষ্টির কারণে সেসব গর্তে পানি জমে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে অফিসগামী মানুষ সড়কে নেমে আসায় হ-য-র-ব-ল অবস্থা তৈরি হয়। তিনি বলেন, পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মেশিন বসিয়ে রাস্তার পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।
ট্রাফিকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এ এলাকায় বিআরটি লাইন-৩ এর আওতায় বিমানবন্দর, টঙ্গী, চৌরাস্তা এবং শিববাড়ি-গাজীপুরসহ ২০.২ কিলোমিটার এলাকার কাজ চলছে। নির্মাণকাজের কারণে সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এগুলো সাথে সাথে সংস্কার করে না। যে কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিআরটি কর্তৃপক্ষের অবহেলাতেই ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
বিআরটি প্রকল্পের ২০ কিমিতে যানজট
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি জানান, ভোর রাতের বৃষ্টির জেরে গতকাল দিনভর অসহনীয় যানজটের কবলে ছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিআরটি প্রকল্পভুক্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন এ মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী। অনেকে গাড়ি ছেড়ে বহু কষ্টে হেঁটে গন্তব্যে যান, আবার অনেকে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পেরে বাসায় ফিরে যান।
ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বিমানবন্দর-গাজীপুর অংশে প্রায় এক যুগ ধরে চলা বিআরটি প্রকল্পের ধীরগতির কারণে এ রুটে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হন। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি জমে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। তখন ট্রাফিক পুলিশেরও কিছু করার থাকে না। আবার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টের উভয় পাশে কাদা ও গর্তের কারণে মানুষের হেঁটে যাওয়ারও কোনো সুযোগ থাকে না।

জানা যায়, বিমানবন্দর এলাকায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কারণে এমনিতেই মহাসড়ক এখন অনেক সরু। এর মধ্যে বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমে যায়। পানি জমে থাকায় চালকরা খানাখন্দ ও গর্ত বুঝতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে ঢাকায় প্রবেশ ও ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পথে দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তরা ট্রাফিক পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল বলেন, সেচযন্ত্র দিয়ে সেচে বৃষ্টির পানি অপসারণ করা হয়েছে। এরপর যানজটে আটকে থাকা গাড়িগুলো চলতে শুরু করে। এর আগে বিমানবন্দর সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগেছিল।

Comments (0)
Add Comment