ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে হঠাৎ করেই যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে উঠেছে পাসপোর্ট। নবায়নের জন্য দেওয়া পাসপোর্ট সময় মতো না পেয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে আছেন হাজারো বাংলাদেশি কর্মী।
অভিযোগ আছে, বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট দূতাবাসে পৌঁছানোর পরও অনেকে তাদের চাহিদা মোতাবেক পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। তবে কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে তারা তাদের পাসপোর্ট নিয়ে যেতে পারছেন বলে প্রবাসীদের কাছ থেকে জানা গেছে।
এ দিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সে ূপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ওমানে বৈধভাবে প্রায় দেড় লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে এসব শ্রমিকের কতজন ভালো আছে সে ব্যাপারে জানার জন্য দূতাবাসের লেবার উইং সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য মেলেনি।
সম্প্রতি ওমান প্রবাসী জাহেদ মিয়া তার নিজের পাসপোর্ট না পাওয়ার ভোগান্তির বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, যেখানে একটা পাসপোর্ট ডেলিভারি দিতে এক মিনিট সময় লাগার কথা সেখানে সময় নিচ্ছে আধঘণ্টা, আর যে কাজ করতে আধঘণ্টা লাগার কথা সেটিতে সময় নিচ্ছে ৬ ঘণ্টা। তিনি দূতাবাস কর্মকর্তাদের হয়রানির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বলেন, “আমি পাসপোর্ট নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সামনের দিকে গেলাম। ডেলিভারির কাগজ দিলাম ভদ্রলোককে। তিনি কম্পিউটার চেক করে কয়েকটা বাক্সে খোঁজ করে বলেন, ভাই এক সপ্তাহ পরে আসেন। পাসপোর্ট এখনো আসেনি। আপনার পাসপোর্ট এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করতেছে’। আপনি সরে দাঁড়ান। অন্যদের আসতে দিন।
\জাহেদ বলেন, এমন কথা শোনার পর আমার মন খারাপ হয়ে যায়। একপর্যায়ে আমি প্রবাসী কর্মকর্তার উপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকি। বলি, পাসপোর্ট ডেলিভারি বন্ধ থাকবে, আগে পাসপোর্ট দিতে হবে, তারপর বাকি কথা। পরে ওই কর্মকর্তার কথা মতো আমি এক সপ্তাহ পর আবারো দূতাবাসে যাই।
প্রবাসী জাহেদ বলেন, দূতাবাস গিয়ে উচ্চবাচ্য করে কর্মকর্তাকে আমি বলি, পাসপোর্ট দিবা, না হয় অ্যাম্বাসি থেকে আজ কাউকে বের হতে দেবো না! পরে ওই কর্মকর্তা আমাকে বলেন, ভাই একটু ধৈর্য ধরেন। আপনার পাসপোর্ট ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। শুধু প্রবাসী জাহেদ মিয়া নন, তার মতো অনেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জাহেদের এমন প্রতিবাদী আচরণের জন্য প্রবাসী অনেকে তাকে স্যালুট জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন প্রবাসীদের জন্য খোলা দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে।
এপ্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল সাইফুল নামের একজন প্রবাসী উল্লেখ করে বলেন, বিপ্লবী জাহেদ ভাই। ইয়াসিন সরকার তার মন্তব্য বলেন, হোক প্রতিবাদ। মোহাম্মদ মামুন খান লেখেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ কাউকে না কাউকে করতে হবে।
এ দিকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী চলতি মাসের প্রথম ৯ মাসে দেশটিতে বৈধভাবে পাড়ি জমিয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮১ জন শ্রমিক। এর মধ্যে আগস্ট মাসের তুলনায় (১৯৭৭৪) সেপ্টেম্বর মাসে (১৭৯৬৭) দুই হাজার শ্রমিক কম গেছে। চুক্তি মোতাবেক পাড়ি জমানো এসব শ্রমিকের মধ্যে কতজন শ্রমিক সমস্যায় আছেন, সে ব্যাপারে ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অপর দিকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো বিদেশগামী শ্রমিকরা কোন দেশে কতজন প্রতি মাসে পাড়ি জমিয়েছে তার পরিসংখ্যান প্রতি মাসের ২ তারিখের মধ্যে তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে দিলেও গত অক্টোবর মাসে কতজন শ্রমিক মালয়েশিয়া, দুবাই, সৌদিসহ অন্যান্য দেশে গেছে তা শনিবার রাত পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।
অভিযোগ আছে বিদেশে কর্মীর বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া নিয়ে বিস্তর অভিযোগও রয়েছে এই দফতরের বিরুদ্ধে। এমনকি এই বিভাগের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অবৈধভাবে বহির্গমন ছাড়পত্র দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করলেও শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।