হিমছড়ি পাহাড় পর্যটন কেন্দ্রে বিকল্প সিঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ

কক্সবাজারের হিমছড়ি পাহাড় পর্যটন কেন্দ্রে উঠানামার জন্য আরেকটি বিকল্প সিঁড়ি নির্মাণ করা হবে। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আধুনিক এ সিঁড়িটি নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে কক্সবাজার বন বিভাগের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও সারোয়ার আলম সংবাদকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, হিমছড়ি পাহাড়ে বিকল্প আরেকটি আধুনিক সিঁড়ি নির্মাণ করা হবে।

এ পর্যটন মৌসুমে সরেজমিন হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্রে দেখা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যাওয়া দেশি-বিদেশি লাখ লাখ পর্যটন দ্বিতীয় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত হিমছড়ি পাহাড়ে যায়। সেখানে টিকেট কিনে ভেতরে যাওয়ার পর পর্যটকরা পুরনো ঝুকিপূর্ণ সিঁড়ি দেখে হতাশ। তারা পাহাড়ে উঠে সমুদ্র দেখার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন। তারা পাহাড়ে না উঠে পাশের আকর্ষণীয় ঝরনার কাছে দাঁড়িয়ে দুই একটি ছবি তুলে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরার পর ফিরে যান।

আর উঠতি বয়সের পর্যটকরা বহুকষ্টে সিঁড়ি বেয়ে হিমছড়ি পাহাড়ে উঠেন। তারা পাহাড়ে কিছু সময় কাটানোর পর হতাশ হয়ে আবার ঝুঁকিপূর্র্ণ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামেন।

কয়েকজন পর্যটন কক্সবাজার থেকে ফিরে এসে অভিযোগ করে বলেন, পর্যটন খাতে অনেক উন্নত হলেও কক্সবাজারের হিমছড়িসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র আরও উন্নত হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্রে যাবেন।

অভিযোগ রয়েছে, হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্রে গত এক যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যার কারণে কক্সবাজার সৈকত থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে হিমছড়ি গিয়েও হতাশ হয়ে ফিরতে হয় বলে পর্যটকরা অভিযোগ করেন।

হিমছড়ি ছাড়াও ইনানী, পাটুয়ারটেক পর্যটক স্পটে গেলে প্রধান সড়কের পাশে গাড়ি থামলে টোলের নামে ৩০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। কিন্তু বালু ও পাথরের ওপর দিয়ে হাটা চলা ছাড়া তেমন কিছুই নেই। সেখানে পর্যটকরা গিয়ে মানসম্মত কিছু থাবে তার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ধুলাবালু দিয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে সময় কাটিয়ে আবার ফিরতে হচ্ছে। পর্যটন স্পটগুলো আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুললে বাড়বে পর্যটক, বাড়বে রাজস্ব।

উল্লেখ্য হিমছড়ি পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক সংবাদের প্রথম পাতায় একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরপর বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। তারা হিমছড়ি পাহাড়ে উঠার কষ্ট লাঘবে আরেকটি নতুন সিঁড়ি করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যটক হিমছড়ি পাহাড়ে যান।

Comments (0)
Add Comment