মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আরেক ধাপ অগ্রগতি

মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার খোলার আরেক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। ঢাকাস্থ মালয়েশীয় হাইকমিশন থেকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দু’দিন আগে এক চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নিতে আগ্রহী। কনস্ট্রাকশন, প্লান্টেশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং-এই তিন খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে দেশটি। বিদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি বাংলাদেশের জন্য সহসা প্রত্যাহার করা হবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মালয়েশিয়ার চিঠি পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সূত্র জানায়। ঈদের পরই কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। অর্থাত্ সরকারি-বেসরকারি দুই পর্যায়েই কর্মী যেতে পারবে মালয়েশিয়ায়। তাদের নির্বাচিত করা হবে সরকারের নিবন্ধিত ডাটাবেজ থেকে।
তবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে কারা কর্মী পাঠাতে পারবে, সেটি ঠিক করবে মালয়েশীয় সরকার। ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামের যে তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, এদের মধ্য থেকে বাছাই করা হবে কাদের মাধ্যমে কর্মী নেবে দেশটি। মালয়েশিয়া সরকার যে চাহিদাপত্র পাঠাবে, তাতে কর্মীর সংখ্যার পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির নামও থাকবে। এরপর মন্ত্রণালয় চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবে। মালয়েশিয়া যেতে একজন কর্মীর কত টাকা খরচ হবে, সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানায় মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুর রউফ বলেন, আমরা গত রোববার মালয়েশিয়ার হাইকমিশন থেকে চিঠি পেয়েছি। ওই চিঠিতে জানানো হয় মালয়েশিয়া কর্মী নিতে রাজি হয়েছে। বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার যে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি বাংলাদেশের জন্য সহসায় প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানানো হয় চিঠিতে। আমরা আশা করছি ঈদের পর মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। তবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে ঈদের পর। আশা করি, মালয়েশিয়া অল্প সময়ের মধ্যে চাহিদাপত্র পাঠাবে এবং দুয়েক মাসের মধ্যেই কর্মী পাঠানো যাবে।
এদিকে বেসরকারিভাবে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সভাপতি আবুল বাশার বলেন, মালয়েশিয়ার বাজার খোলার ব্যাপারে অগ্রগতির খবরটি আমরাও জেনেছি। তবে তারা এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি। এ কারণে আমরা আশান্বিত হলেও এখনও ভরসা রাখতে পারছি না। কারণ তারা গিরগিটির মতো রঙ বদলায়। সকালে এক রকম ঘোষণা দিয়ে, বিকেলে দেয় আরেক রকম ঘোষণা। তিনি আরও বলেন, যেদিন মালয়েশিয়ার মন্ত্রী বাংলাদেশে এসে চুক্তি করে তার পর দিন দেশে গিয়েই সে চুক্তি স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে মালয়েশিয়া সরকার বিষয়টি নিয়ে একেকবার একেক রকম কথা বলেছে। এজন্য আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি, দেখা যায় শেষ পর্যন্ত কী হয়।
মালয়েশিয়া যেতে একজন কর্মীর কত খরচ হবে জানতে চাইলে যুগ্ম সচিব বলেন, সেটি এখনও ঠিক হয়নি। মালয়েশিয়া তাদের খরচের বিষয়টি ঠিক করবে। তারপর বলা যাবে উভয় দেশের খরচ মিলিয়ে একজন কর্মীর পেছনে কত ব্যয় হবে, আর কর্মীকে কত টাকা বহন করতে হবে। এর মধ্যে নিয়োগ কর্তা কত বহন করবে সেটিও দেখার বিষয় আছে। সবকিছু ঠিক হবে মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর।
কয়েক বছর ধরে একের পর এক ঘোষণা দিয়েও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো যায়নি। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। তিন বছর পর ২০১২ সালে সরকারিভাবে (জিটুজি পদ্ধতি) কর্মী পাঠাতে দেশটির সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। জনপ্রতি ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অভিবাসন ব্যয়ে বৃক্ষ রোপণ খাতে পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ কর্মী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন বছরে গেছেন মাত্র ৯ হাজার।
জিটুজির ব্যর্থতায় গত বছরের জুনে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (বিটুবি পদ্ধতি) কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর দুই মাস পর মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরে ঘোষণা করা হয়, বিটুবি নয়, জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হবে। এ পদ্ধতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিও কর্মী পাঠাবে। তখন সরকার জানায়, মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখ কর্মী পাঠানো হবে।
এ পদ্ধতিতে কর্মী নিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এসে সমঝোতা স্মারক সই করেন মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট আনাক জায়েম। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই মালয়েশিয়ার সরকার জানায়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ থাকবে। আগে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়া হবে। পরে চাহিদার ভিত্তিতে নতুন বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করা হবে।

Comments (0)
Add Comment