উল্লেখ্য, চুক্তি অনুযায়ী দেড় কোটি এমআরপি বই ছাপা হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এক কোটি ২০ লাখ বই সরবরাহ করেছে।
২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এমআরপি কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি এমআরপির মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এমআরপি বই দশ বছর মেয়াদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি। সরকার যেহেতু ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেহেতু অধিদপ্তরের পরিকল্পনায় দশ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট চালু করার বিষয়টি বিবেচ্য হচ্ছে। এতে উন্নতমানের নতুন বই কেনার পাশাপাশি দশ বছর-উপযোগী পাসপোর্ট বই পাওয়া যাবে। আর পাসপোর্ট বইয়ের পাতা বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে পাসপোর্টে বইয়ের পাতা রয়েছে ৪৮টি।
বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে দশ বছর। পাশাপাশি দশ বছর-উপযোগী উন্নতমানের বই কেনার প্রয়োজন পড়বে। কারণ অধিদপ্তর মনে করে, বর্তমান বই দিয়ে দশ মেয়াদি পাসপোর্ট বিতরণ করা সম্ভব নয়। সূত্র জানায়, পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ফিও বাড়বে। এেেত্র জরুরি ও সাধারণ উভয় পাসপোর্টের ফি এক হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে পাসপোর্টের সাধারণ ফি ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ তিন হাজার ৪৫০ টাকা এবং জরুরি ফি ৬ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থ বিভাগের প্রস্তাবনা অনুযায়ী দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ফি ধরা হয়েছে সাধারণ ৭ হাজার টাকা, জরুরি ১১ হাজার টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ভ্যাট।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, অর্থবিভাগের এই প্রস্তাব বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা অনুযায়ী সাধারণ অনেক মানুষের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে, বিশেষ করে রোগীদের ক্ষেত্রে। সামগ্রিক বিষয়াদি বিবেচনা করার পরামর্শসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বর্তমান প্রোপটে পাসপোর্টের মেয়াদ ও পাতার সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এটি মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলে তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিললে কার্যকর হবে।
বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পাঁচ বছর মেয়াদি এমআরপি নানা যুক্তিতে বিভিন্ন মহল থেকে দশ বছর করার প্রস্তাব করা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠকে বসে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থবিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।