রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, আপিল বিভাগ তা স্থগিত করে দিয়েছেন। এর ফলে ২১ মার্চ পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৫ মার্চ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালু থাকবে।
গতকাল প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী একেএম ফয়েজ।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন আদালতকে বলেন, ‘বিশ্বের মুসলিমপ্রধান দেশগুলোয় পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ থাকে না। ঈদে অন্যান্য সরকারি ছুটির চেয়ে কয়েকদিন বাড়তি ছুটি দেয়া হয়।’ চলতি বছরের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, রমজান উপলক্ষে ১০ মার্চ থেকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১১ মার্চ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা ছিল।
এর মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি
করতে রমজানের প্রথম ১০ দিন (২১ মার্চ পর্যন্ত) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকবে। একই দিন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও। এতে বলা হয়, ১১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালু থাকবে।
দুই মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেন আইনজীবী মাহমুদা খানম। সেই রিটের ওপর গত রোববার শুনানি করে রমজানে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরপর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে যায় রাষ্ট্রপক্ষ। গত সোমবার বিষয়টি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রাখেন। গতকাল শুনানির পর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।