মুর্শিদাবাদে ৪১ বাংলাদেশি গ্রেফতার

চলতি সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকার করা ৪৮ ভারতীয় জেলেকে আটক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এ সময় ভারতীয় তিনটি মাছ ধরার ট্রলারও জব্দ করা হয়। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

এবার ভারতের অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার সাহেবনগর সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার ৪১ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবকদের মধ্যে চেন্নাইয়ে কাজ করছিলেন দু’জন। বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সময় গ্রেফতার হন তারা। ধৃতদের মধ্যে ৪০ জন বাংলাদেশের রাজশাহি জেলার বাসিন্দা। বাকি এক জনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে বিএসএফের সহযোগিতা ও রানিতলা থানার টিম ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সাহেবনগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। তারপরেই তাদের গ্রেফতার করে। এদের কারও কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল না। দালালের হাত ধরে এরা সবাই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখান থেকে দুজন চেন্নাই কাজে যায়।

এছাড়া বিভিন্ন জন বিভিন্ন জায়গায় কর্ণাটক বা অন্যান্য জায়গায় কাজ করেছিল। ধৃতদের বিরুদ্ধে ১৪৪/১৪সি ফরেন অ্যাক্টে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। এফআইআর দায়েরের পর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, ধৃতেরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তারা অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই।

আরও জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ২ বছর ধরে অবৈধভাবে যাতায়াত করছিলেন এই ৪১ জন। কখনও কানাপাড়া, কখনও চরলবনগোলা তো কখনও রানিনগরের কাতলামারি, লালগোলার বিরামপুর দিয়ে এ দেশে ঢুকেছেন তারা।

পুলিশের সূত্রে খবর, ভগবানগোলা থানার দুই ব্যক্তি এবং মুর্শিদাবাদ থানার এক ব্যক্তির সাহায্যে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় কাজ পেতেন ওই বাংলাদেশিরা। কিন্তু বর্ষার সময়ে কাজ প্রায় বন্ধ ছিল। ঠিকমতো মজুরিও পাচ্ছিলেন না। তাই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন ৪১ জন।সেইমতো সোমবার বাংলাদেশি যুবকরা একত্রিত হয়ে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন পুলিশ খবর পেয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার লালবাগ মহুকুমা আদালতে তোলা হয়। একসঙ্গে ৪১ জন বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার হওয়ায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment