সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমার অপসারণের দাবিতে সন্দ্বীপের সচেতন ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীরা রিগ্যান চাকমার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেন। তার বিরুদ্ধে পতিত সৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, একটি সিন্ডিকেট সৃষ্টির মাধ্যমে সৈরাচার আমলের দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছে রিগ্যান চাকমা। তার দুর্নীতির ব্যাপারে কেউ প্রশ্ন তুলেলেই নানান ধরনের হেনস্থা করেন স্বয়ং ইউএনও। অনিয়মের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলায় একজন প্রধান শিক্ষিকাকে হেনস্তা করে তার অফিস থেকে বের করে দেন। দুর্নীতির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীকে গত ২৬ ডিসেম্বর হেনস্তার চেষ্টা করেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এইসব ঘটনায় সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষের মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠে। বিক্ষুব্ধ সন্দ্বীপের সাধারণ জনতা।
কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির মাধ্যমে সন্দ্বীপের জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। রিগ্যান চাকমা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বৈরাচারী আচরণ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন ব্যক্তি প্রশাসনে থাকা মানেই জনগণের প্রতি অবিচার করা। তার অপসারণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিক্ষোভে হাজার হাজার ছাত্র, যুবক ও সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন। এই কর্মসূচি সন্দ্বীপের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। দুর্নীতিবাজ ইউএনও রিগ্যান চাকমাকে অপসারণ করা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহৎ কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
অনুষ্ঠানে একাত্বতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সন্দ্বীপ উপজেলা আহ্বায়ক প্রভাষক জনাব নিঝুম খান, এভিয়েশন নিউজের সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিপ্লব, মানবাধিকার কর্মী মিলাদ মুদ্দাচ্ছির, দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক শামসুল আজম মুন্না, ভুক্তভোগী গাছুয়া ইউনিয়নের মো: সাহাবুদ্দিন সুমন, ফরিদ আহমেদ, মগধরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: লালচানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কতৃপক্ষের কাছে ইউএনও কার্যক্রমের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন সন্দ্বীপের সাধারণ ছাত্র জনতা।