যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কিশোরীর আকাশে একক স্বপ্ন পূরণের গল্প
বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী এভা ছোয়া যুক্তরাষ্ট্রে তার জীবনের প্রথম একক (সোলো) উড়ান সম্পন্ন করেছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এই অর্জন তাকে ভবিষ্যৎ পাইলট হিসেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
শৈশবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও একসময় বিমান দুর্ঘটনার একটি ভিডিও তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বিশেষ করে ২০০৯ সালের একটি জরুরি অবতরণের ঘটনা এবং তার তদন্ত প্রক্রিয়া তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকেই এভা আকাশ ও বিমানচালনার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে সে উপলব্ধি করে যে চিকিৎসা পেশার প্রতি তার আগ্রহ কমে গেছে এবং পাইলট হওয়ার ইচ্ছাই তাকে বেশি আকর্ষণ করছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সে পরিবারকে নিজের সিদ্ধান্ত জানায় এবং তাদের সমর্থন পায়।
পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত একজন অভিজ্ঞ বাংলাদেশি ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টরের অধীনে তার প্রশিক্ষণ শুরু হয়। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সে ধীরে ধীরে উড্ডয়ন, নেভিগেশন, ফ্লাইট পরিকল্পনা ও নিরাপত্তাবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে। বিশেষ করে বিমান অবতরণ (ল্যান্ডিং) শেখার ক্ষেত্রে তাকে বেশ সময় ও পরিশ্রম করতে হয়েছে।
২০২৬ সালের ২৯ মার্চ, নিজের ১৬তম জন্মদিনে এভা প্রথমবারের মতো একা বিমান উড়িয়ে সফলভাবে তিনটি টেকঅফ ও অবতরণ সম্পন্ন করে। এই অর্জনের মাধ্যমে সে তার প্রথম সোলো ফ্লাইট সম্পন্ন করে।
এভা জানায়, শুরুতে কিছুটা চাপ অনুভব করলেও মনোযোগ ধরে রাখার মাধ্যমে সে সফলভাবে ফ্লাইট সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। তার মতে, স্বপ্ন দেখার সাহস এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমই তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
এভা ছোয়ার এই সাফল্যে তার পরিবার, প্রশিক্ষক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায় অত্যন্ত গর্বিত। তারা মনে করছেন, এই অর্জন অন্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ভবিষ্যতে এভা এভিয়েশন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং পাইলট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। তার লক্ষ্য একজন দক্ষ এয়ারলাইন্স পাইলট হওয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করা।
সৌজন্যে : প্রথম আলো ও রোজিনা ইসলাম