সোনার দামে অস্বচ্ছতা, এক্সচেঞ্জে ‘২০% কাটতি’: ভোক্তাদের ক্ষোভ বাড়ছে
নাজমুন নাহার : দেশে সোনার দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা এবং এক দোকানের সোনা অন্য দোকানে বদলাতে গেলে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য কেটে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই দেশে সোনার দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণার শামিল।
ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমলেও বাংলাদেশে তা দ্রুত সমন্বয় করা হয় না। অথচ দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বাজারে প্রভাব পড়ে। ফলে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শাহিনা আক্তার এভিয়েশন নিউজকে বলেন, “সোনার দাম বাড়ানো বা কমানোর সঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সরাসরি জড়িত। তাদের সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
এক্সচেঞ্জে কেন এত কাটতি?
সোনার দোকানগুলোতে গিয়ে পুরনো গয়না বদলে নতুন নিতে চাইলে ক্রেতাদের কাছ থেকে ‘মেকিং চার্জ’, ‘ওয়েস্টেজ’ এবং বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের অজুহাতে বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই কাটতির পরিমাণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
একাধিক ক্রেতা জানিয়েছেন— ১০ ভরি সোনা বদলাতে গেলে প্রায় ১.৫–২ ভরি সমমূল্যের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে ! একই ক্যারেট (২২ ক্যারেট) সোনা হলেও ভিন্ন দোকানে। এক্সচেঞ্জে অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয়, কোনো স্ট্যান্ডার্ড নীতিমালা না থাকায় দোকানভেদে কাটতির হার ভিন্ন।
আন্তর্জাতিক বাজার বনাম দেশীয় বাজার
গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে একাধিকবার ওঠানামা হয়েছে। বিশেষ করে: মার্চের শেষ সপ্তাহে দাম কমে, এপ্রিলের শুরুতে আবার কিছুটা কমে, মাঝামাঝি সময়ে আরও এক দফা সংশোধন হয়!
অথচ এই সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে দাম ২-৩ বার বড় ধরনের পতন হলেও দেশীয় বাজারে সেই হারে সমন্বয় হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে স্থানীয় বাজারে তা প্রতিফলিত হতে সময় লাগতেই পারে—কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কমার পরও যদি সমন্বয় না হয়, তাহলে বাজারে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়।
অভিযোগ ‘কারসাজির’
ভোক্তাদের অভিযোগ—বড় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে ! দাম কমানোর ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করা হচ্ছে। এক্সচেঞ্জ নীতিতেও স্বচ্ছতা নেই।
কিছু ক্রেতার দাবি, “এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ সোনা কেনা তো দূরের কথা, পুরনো সোনাও ন্যায্য দামে বিক্রি বা বদলাতে পারবে না।”
জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের যুক্তি
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন— আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ছাড়াও ডলার রেট, আমদানি খরচ ও কর বিবেচনা করতে হয়।
পুরনো সোনা গলিয়ে নতুন গয়না তৈরিতে খরচ হয়। বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ঝুঁকিও রয়েছে।
তবে এসব যুক্তি দিলেও নির্দিষ্ট কোনো এক্সচেঞ্জ নীতিমালা না থাকায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
কী চাইছেন ভোক্তারা?
ভোক্তাদের দাবি—সোনার দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জে নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ কাটতির সীমা নির্ধারণ করা। পাশাপাশি সোনার দোকান গুলোতে সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। অন্যথায় সোনার বাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।