কুমিল্লায় বিমানবন্দর, রানওয়ে, টার্মিনাল, জনবল ও অবকাঠামো সবই আছে; কিন্তু নেই যাত্রীবাহী বিমান চলাচল।
প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ থাকা এই বিমানবন্দর শুধু আকাশপথের নির্দেশনা সেবা দিয়ে প্রতি বছর আয় করছে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।
শহরের দক্ষিণে ৭৭ একর জায়গায় অবস্থিত কুমিল্লা বিমানবন্দর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ও মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করত।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলে। ১৯৯৪ সালে পুনরায় চালু হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় আবার বন্ধ হয়ে যায়।
ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও নেভিগেশন ব্যবস্থা সক্রিয়। বিমানবন্দরের সিএনএস প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন আহাম্মদ জানান, ডিভিওআর, ডিএমই ও ভিস্যাট প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিদিন ২৫-৩০টি উড়োজাহাজ সেবা নেয়। এতে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।
পাশেই কুমিল্লা ইপিজেডে ৪৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক।
গত বছর রফতানি আয় হয়েছে ৯০২ মিলিয়ন ডলার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিমানবন্দর চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, কার্গো পরিবহন সহজ হবে।
প্রবাসী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রেও কুমিল্লা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে এখান থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২০ জন বিদেশ গেছেন। কিন্তু তাদের যাত্রা শুরু করতে হয় ঢাকা, সিলেট বা চট্টগ্রাম থেকে।
স্থানীয়দের দাবি, নিজ জেলায় বিমানবন্দর চালু হলে যাত্রীসেবার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু হলে এটি পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। যে বিমানবন্দর বন্ধ থেকেও আয় করছে কোটি টাকা, সেটি চালু হলে কত বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে—এই প্রশ্নেই অপেক্ষা করছেন কুমিল্লাবাসী।