হজ ব্যবস্থাপনায় বিমানের ৩৫ সদস্যের সৌদি পোস্টিং, সাবেক কর্মকর্তাদের সমালোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ঘিরে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই শুরু হয়েছে পবিত্র হজযাত্রা।

এ বছর অর্ধেক বাংলাদেশি হজযাত্রী বহন করবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে অস্থায়ীভাবে ৩৫ সদস্যের একটি বিশেষ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ, যা সাবেক কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

বিমান জানিয়েছে, কাস্টমার সার্ভিসের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন ইতিমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বাকিরা ধাপে ধাপে সেখানে যাবেন।

এই দলে কাস্টমার সার্ভিস, প্রশাসন, কারিগরি ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছেন।

তাদের কাজ হবে হজ ফ্লাইট ও সৌদি বিমানবন্দরে যাত্রীদের সেবার মান বাড়ানো এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি কমানো।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বলেন, “হজের ২১৫টি অতিরিক্ত ফ্লাইট মসৃণভাবে সম্পন্ন করতে ৩৫ জনের টিম পাঠানো আবশ্যক ছিল। এটি কোম্পানির প্রয়োজনে নেওয়া সিদ্ধান্ত।”

বিমানের অভ্যন্তরীণ চিঠি অনুযায়ী, দলে সর্বোচ্চ ১৪ জন রয়েছেন কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ থেকে।

তাদের মধ্যে আছেন ওই বিভাগের পরিচালক বদরুল হাসান লিটন ও মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ—যাঁরা স্বাভাবিক সময়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব রুটের সেবা মনিটরিং করেন। তাঁদের ৪১ দিনের জন্য সৌদি প্রাঙ্গণে হজ সংক্রান্ত সেবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বিমানের সাবেক পরিচালক নাফিজ ইমতিয়াজ উদ্দিন প্রশ্ন তোলেন, “কাস্টমার সার্ভিস পরিচালকের কাজ সৌদি গিয়ে ভিজ্যুয়াল মনিটরিং নয়, বরং সব রুটের তত্ত্বাবধান করা।

এখন ফোন বা ডিজিটাল মাধ্যম থাকতে সেটা সম্ভব। তিনি সৌদি চলে গেলে ঢাকায় যাঁদের কাজ ছেড়ে আসছেন, তাঁদের মাধ্যমে অন্যান্য ফ্লাইটে সেবা জটিলতা তৈরি হবে না?”

প্রসঙ্গত, প্রি-হজ পর্যায়ে বিমানের ১০৮টি ফ্লাইটে ৩৯ হাজার ৬৪৩ জন যাত্রী সৌদি আরবে যাচ্ছেন। ফিরতি ফ্লাইট মিলিয়ে মোট ২১৫টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান।

স্বল্প সময়ের এই বিপুল কর্মযজ্ঞ ঘিরে সেবার মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক থেকেই গেল।

সূত্র- সময় নিউজ

Comments (0)
Add Comment