ঢাকা, ২৭ এপ্রিল ২০২৬: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। চুক্তি সই, টেস্ট রান এবং পরবর্তী মূল্যায়ন শেষে সীমিত পরিসরে টার্মিনাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
চেয়ারম্যান বলেন, টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে। “চুক্তিটি সম্পূর্ণ ফেয়ার হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব। এ পর্যন্ত নয়বার আলোচনা হয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, নেগোসিয়েশন শেষ হওয়ার পর চুক্তি সই হতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। এরপর ৬ মাস থেকে এক বছরের একটি টেস্ট রান পরিচালনা করা হবে। টেস্ট রান শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর সীমিত আকারে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার নির্ধারিত ১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।
বিমানবন্দর শিফটিংয়ের ঝুঁকি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের স্থানান্তর প্রায় ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়। তাই তাড়াহুড়া না করে ধাপে ধাপে এগোনোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন টার্মিনাল চালু না হওয়ায় স্থাপিত যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখা সম্ভব। প্রয়োজনে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
আইকাও অডিট প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, সর্বশেষ অডিট হয়েছিল ২০১৮ সালে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের নির্ধারিত অডিট স্থগিত হয়। চলতি বছরের অক্টোবরে একটি অডিট টিম আসার কথা রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ অডিট ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সম্পন্ন হতে পারে।
এদিকে, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা পেয়েছে বেবিচক। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।
মতবিনিময় সভায় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।