বোয়িং–বিমান চুক্তি: বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ‘যুগান্তকারী মাইলফলক’—বোয়িং ভাইস প্রেসিডেন্ট

বোয়িং–বিমান চুক্তি: বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ‘যুগান্তকারী মাইলফলক’—বোয়িং ভাইস প্রেসিডেন্ট

ঢাকা: Boeing-এর বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট Paul Righi বলেছেন, Biman Bangladesh Airlines-এর সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে একটি ‘যুগান্তকারী মাইলফলক’।

বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পল রিঘি বলেন, অনুষ্ঠানে এসে বোয়িং ও বিমানের যৌথ উপস্থিতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন। “এই অংশীদারিত্ব আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হলো,” বলেন তিনি।

চুক্তির আওতায় বিমান ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে বিমান বিশ্বের সেই অল্প কয়েকটি এয়ারলাইন্সের একটি হবে, যারা ৭৮৭ ড্রিমলাইনার সিরিজের সব মডেল—৭৮৭-৮, ৭৮৭-৯ এবং ৭৮৭-১০ পরিচালনা করে।

তিনি জানান, ৭৮৭-১০ মডেলটি মধ্যপ্রাচ্যসহ উচ্চ চাহিদার রুটে বেশি যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হবে। অন্যদিকে ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দূরপাল্লার রুটে ব্যবহৃত হবে।

এছাড়া নতুন যুক্ত হওয়া ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ বিমানের সিঙ্গেল-আইল বহর আধুনিকায়নে সহায়ক হবে এবং বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে আরও দক্ষভাবে সংযুক্ত করবে।

বোয়িংয়ের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের ৭৮৭ ও ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী, যা অপারেশনাল ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলে সহায়তা করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত কেবিন সুবিধা, বাড়তি আরাম এবং মসৃণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যাত্রীসেবার মানও বাড়বে।

পল রিঘির মতে, এই চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবা উন্নয়নের কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি উদীয়মান এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেও সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, “বোয়িং ভবিষ্যতেও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং আধুনিক সমাধানের মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

Comments (0)
Add Comment