টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব নিতে যাওয়া হিউম্যানয়েড রোবট জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতার আরেকটি উজ্জ্বল নিদর্শন।
জাপান এয়ারলাইনসের এই উদ্যোগ শুধু একটি বিমান সংস্থার উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচায়ক নয়, বরং একটি বার্ধক্যপ্রবণ ও শ্রমঘন সমাজে টিকে থাকার কৌশল।
যেখানে জনসংখ্যার গড় বয়স বাড়ছে এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে, সেখানে অটোমেশন আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
প্রায় চার ফুট উচ্চতার এই রোবটগুলি যখন মানুষের সহকর্মীদের সঙ্গে করমর্দন ও ইশারায় কথা বলতে পারছে, তখন এটা পরিষ্কার যে প্রযুক্তি এখন আর কেবল যন্ত্র নয়, তা হয়ে উঠছে সহকর্মী।
তবে এই অগ্রযাত্রার পেছনে দুশ্চিন্তার বিষয়ও কম নয়। বিশেষজ্ঞরা যে আশঙ্কার কথা বলছেন, তা খারিজ করার উপায় নেই—রোবট যেখানে মানুষের চেয়ে বেশি কার্যকর, কম ভুল করে এবং ওভারটাইম বেতন চায় না, সেখানে মানুষের চাকরি যাওয়া অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।
জাপানের মতো দেশে শ্রম ঘাটতি মেটাতে রোবটের ব্যবহার যুক্তিযুক্ত; কিন্তু বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার মতো উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তির দেশে এই প্রযুক্তির প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় যেকোনো দেশকেই খাপ খাইয়ে নিতে হবে ঠিকই, তবে প্রশ্ন হচ্ছে—সেইসব মানুষের জন্য কী বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে, যাদের কাজ একসময় অটোমেশন করে দেওয়া হবে?
এখানে শুধু ‘দক্ষতা’ বা ‘উৎপাদনশীলতা’ মাপা যথেষ্ট নয়, দরকার সমাজে রোবটের ভূমিকা ও মানুষের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা।
পরিশেষে বলতে হয়, হানেদার সেই রোবট যখন প্রথম লাগেজ তুলবে, তখন তা নিঃসন্দেহে প্রযুক্তি ও সুবিধার জয়গান করবে।
কিন্তু লম্বা সময়ে দেখতে হবে, এই যান্ত্রিক বন্ধুটি কি মানুষের সহকর্মী হয়ে টিকে থাকবে, না নিঃসঙ্গ কর্মক্ষেত্রে মানুষের স্থলাভিষিক্ত হবে? উত্তরটা হয়তো নির্ভর করছে আমাদের নিজেদের নৈতিক পছন্দ ও সামাজিক পরিকল্পনার ওপর।