ভিয়েতনামের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যানয় ও নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে। এটি নেদারল্যান্ডসে কোনো ভিয়েতনামী এয়ারলাইন্সের প্রথম সরাসরি ফ্লাইট, যা ইউরোপে ভিয়েতনামের বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন এই রুট চালুর মাধ্যমে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ইউরোপের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করল। একই সঙ্গে এটি ভিয়েতনাম ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট ভিএন-৮৩ আধুনিক ওয়াইডবডি এয়ারবাস এ-৩৫০ উড়োজাহাজে পরিচালিত হয়। প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হ্যানয়ের নই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। প্রায় ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে এটি আমস্টারডামের শিফোল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। অন্যদিকে আমস্টারডাম থেকে হ্যানয়গামী ভিএন-৮২ ফ্লাইট একই দিনে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় যাত্রা শুরু করবে।
বর্তমানে হ্যানয়-আমস্টারডাম রুটে সপ্তাহে তিনটি রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার এবং শনিবার এই ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হবে। সব ফ্লাইটেই অত্যাধুনিক এয়ারবাস এ-৩৫০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে যাত্রীদের জন্য উন্নত আরাম ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করবে।
ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের উপ-মহাপরিচালক নগুয়েন কোয়াং ট্রুং বলেন, নতুন এই রুট তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে ভিয়েতনামের যাত্রীরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে আরও সহজে সংযুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনাম ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিমান সংস্থা হিসেবে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ভবিষ্যতেও সেবার মান উন্নয়ন এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর মাধ্যমে বৈশ্বিক সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
আমস্টারডাম ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্র। শিফোল বিমানবন্দর থেকে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের শত শত গন্তব্যে সংযোগ রয়েছে। ফলে হ্যানয়-আমস্টারডাম সরাসরি রুট চালুর ফলে ভিয়েতনামের যাত্রীরা এখন আরও সহজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ফ্লাইট রুট শুধু দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কই জোরদার করবে না, বরং ভিয়েতনামকে ইউরোপীয় বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।