যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দর (জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল এয়ারপোর্ট)-এ বড় ধরনের অপারেশনাল বিপর্যয় ঘটেছে। ৯ মে ২০২৬ তারিখে এখানে মোট ১২৩টি ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় রুটেই।
এই বিলম্বের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউরোপগামী ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইটগুলো। বিশেষ করে লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও প্যারিস রুটে যাত্রীদের সংযোগ ফ্লাইট মিস হওয়া এবং পুনরায় বুকিংয়ের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, আমেরিকান এয়ারলাইন্স এবং জার্মানির লুফথানসা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। হিউস্টন বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড অপারেশন, গেট ব্যবস্থাপনা এবং উড়োজাহাজ ঘুরিয়ে চালানোর প্রক্রিয়ায় দেরির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিলম্ব দেখা যায়—যা সাধারণত ইউরোপগামী রাতের ফ্লাইট ছাড়ার সময়। ফলে একের পর এক ফ্লাইট দেরিতে ছাড়তে শুরু করে এবং পুরো সময়সূচি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরেও এর প্রভাব পড়ে, কারণ হিউস্টন থেকে যাওয়া অনেক ফ্লাইট দেরিতে পৌঁছায়। এতে যাত্রীদের পরবর্তী ইউরোপীয় সংযোগ ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একইভাবে লন্ডন হিথ্রো এবং প্যারিস চার্লস দ্য গল বিমানবন্দরেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
বিশেষ করে লুফথানসা এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কোডশেয়ার ও ট্রান্সআটলান্টিক রুটগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায়। অনেক যাত্রীকে বিকল্প ফ্লাইট বা হোটেল ব্যবস্থার মাধ্যমে সামলাতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিলম্বের ফলে পুরো ট্রান্সআটলান্টিক নেটওয়ার্কে “ডমিনো ইফেক্ট” তৈরি হয়, যেখানে একটি ফ্লাইট দেরি হলে পরবর্তী একাধিক ফ্লাইট সময়সূচি নষ্ট হয়ে যায়।
বর্তমানে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের পুনরায় বুকিং এবং রুট পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বসন্ত ২০২৬ মৌসুমে উচ্চ চাহিদার কারণে খালি আসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের দ্রুত নিজেদের ফ্লাইট স্ট্যাটাস চেক করতে এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।