জাপানগামী ও জাপান থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নতুন করে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ক্যাথে প্যাসিফিক, জেটস্টার জাপান, হংকং এয়ারলাইন্সসহ একাধিক এয়ারলাইন এশিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি কমিয়ে দেওয়ায় হংকং, ম্যানিলা, তাইপে, টোকিওসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সংযোগে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে যাত্রীদের অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি বাড়ছে।
ক্যাথে প্যাসিফিক ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে জাপান রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এপ্রিল থেকে অক্টোবর সময়কালে হংকং-টোকিও নারিতা, ওসাকা কানসাই, নাগোয়া, ফুকুওকা ও সাপ্পোরো রুটের বেশ কয়েকটি নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং মহামারির পর নেটওয়ার্ক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যাথে প্যাসিফিক মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত তাদের বৈশ্বিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের প্রায় ২ শতাংশ কমিয়ে আনবে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে স্বল্প দূরত্বের আঞ্চলিক রুটগুলোতে। যদিও টোকিও, ওসাকা ও নাগোয়ার মতো ব্যস্ত গন্তব্যে এখনো প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট চলছে, তবুও নির্দিষ্ট কিছু দিনে ফ্লাইট কমে যাওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প অপশন সীমিত হয়ে পড়ছে।
কম খরচের এয়ারলাইন জেটস্টার জাপানও তাদের আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। নারিতা ও কানসাই বিমানবন্দর থেকে হংকং, তাইপে ও ম্যানিলা রুটের কিছু ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যদিও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে কিছু রুট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এখনো বেশ কিছু সেক্টরে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে।
হংকং এয়ারলাইন্সও জাপান রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়েছে। বিশেষ করে কিছু সেকেন্ডারি শহরের রুট এখনো মহামারির আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এর ফলে হংকং-জাপান রুটে সামগ্রিক আসনসংখ্যা কমে গেছে এবং অতিরিক্ত চাপ পড়ছে অবশিষ্ট ফ্লাইটগুলোর ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান এশিয়ার বহু বহুগন্তব্য ভ্রমণের কেন্দ্র হওয়ায় সামান্য ফ্লাইট কমলেও এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ম্যানিলা ও তাইপে থেকে জাপানগামী ফ্লাইট কমে যাওয়ায় অনেক যাত্রী এখন সিউল, ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুর হয়ে বিকল্প রুটে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে কম খরচে ভ্রমণের সুযোগও কমে যাচ্ছে।
টোকিও নারিতা, হানেদা, কানসাই ও চুবু বিমানবন্দরে এখন পরিচালিত ফ্লাইটগুলোতে যাত্রীচাপ বেড়েছে। অনেক যাত্রীকে আগের বা পরের ফ্লাইটে স্থানান্তর করা হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত রাত যাত্রাবিরতিতে কাটাতে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, জাপান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যাত্রীদের আগেভাগে টিকিট নিশ্চিত করতে হবে এবং বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভ্রমণসূচিতে অতিরিক্ত সময় রাখা এবং ফ্লাইটের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জুনের শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। তবে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হলে এবং চাহিদা বাড়তে থাকলে গ্রীষ্মের শেষভাগে কিছু রুটে আবার ফ্লাইট সংখ্যা বাড়তে পারে।