ভারতের নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় আসা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। রানওয়ে থেকে ট্যাক্সিওয়ে হয়ে টার্মিনালের দিকে যাওয়ার সময় উড়োজাহাজের সামনে শেয়াল দেখতে পেয়ে ফ্লাইট থামিয়ে দেন পাইলট। পরে কন্ট্রোল টাওয়ারের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। নয়াদিল্লি থেকে আসা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণের পর ট্যাক্সিওয়ে দিয়ে টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। এসময় ককপিট থেকে পাইলট উড়োজাহাজের ডান পাশে ঘাসের মধ্যে একটি শেয়াল দেখতে পান। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে উড়োজাহাজ থামিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ককপিট থেকে টাওয়ারে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, “স্যার, উড়োজাহাজের ডান পাশে প্রায় ৩০ ফুট দূরে ঘাসের মধ্যে একটি শেয়াল দেখতে পাচ্ছি। আমরা অপেক্ষা করছি। সেটিকে সরিয়ে দিলে আমরা আবার ট্যাক্সি শুরু করব।”
পাইলটের বার্তা পাওয়ার পরপরই কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে নিরাপত্তাকর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। টাওয়ার থেকে পাইলটকে জানানো হয়, “আমরা লোক পাঠাচ্ছি, আপনারা অপেক্ষা করুন।”
তবে কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ককপিট থেকে আবার জানানো হয়, আরও একটি শেয়াল বাম দিক থেকে ডান দিকে চলে গেছে এবং তখন উড়োজাহাজের প্রায় ১০০ ফুট সামনে দুটি শেয়াল অবস্থান করছে। এতে পাইলট আরও সতর্ক হয়ে যান।
টাওয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি গাড়িসহ দুজন কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর একটি কালো রঙের পিকআপ গাড়ি সেখানে যায়। ককপিট থেকে তখন জানানো হয়, শেয়ালগুলো গাড়িটির প্রায় ৫০ ফুট দূরে ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে আছে এবং সম্ভবত সেখানে একটি গর্ত রয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তাকর্মীরা আশপাশ খুঁজে দেখলেও কোনো শেয়াল দেখতে পাননি। তারা উড়োজাহাজের ডান পাশে একটি সবুজ রঙের পলিথিন খুঁজে পান এবং সেটি হাতে নিয়ে ককপিটের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে টাওয়ার থেকে পাইলটকে জানানো হয়, সেখানে কেবল একটি পলিথিন পাওয়া গেছে, আর কোনো প্রাণী দেখা যায়নি।
এরপর ককপিট থেকে ট্যাক্সি চালিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্মতি দেওয়া হলে টাওয়ার উড়োজাহাজটিকে টার্মিনালের দিকে যেতে নির্দেশনা দেয়। সব মিলিয়ে ফ্লাইটটি প্রায় এক মিনিটের মতো আটকে ছিল বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা।
ঘटनার পুরো ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ‘রয়েল বেঙ্গল এভিয়েশন’ নামের একটি পেইজে ভিডিওটি আপলোড করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওতে কন্ট্রোল টাওয়ার ও ককপিটের কথোপকথন স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
এ বিষয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদ বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় মাঝে মাঝে বন্যপ্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। তবে এ ধরনের ঘটনার কোনো আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট তাঁর কাছে পৌঁছেনি বলে জানান তিনি।
ঘटनাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যতিক্রমী ও মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও আশপাশের এলাকায় বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।