দেশের আকাশপথে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে স্বর্ণ চোরাচালান চক্র। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, উড়োজাহাজের ভেতরের গোপন ও সংবেদনশীল স্থান ব্যবহার করে বড় বড় স্বর্ণের চালান পাচারের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে ১৮ কেজি ওজনের ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইফেরত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ফ্লাইটে তল্লাশি চালায় গোয়েন্দা সংস্থা ও এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)। পরে উড়োজাহাজটির কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেলের ভেতর থেকে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অতীতেও দেশের ইতিহাসের বড় বড় স্বর্ণের চালান—১২৪ কেজি, ১১৪ কেজি ও ৬০ কেজি স্বর্ণ—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ থেকেই উদ্ধার হয়েছিল। এসব ঘটনায় পাইলট, কেবিন ক্রু, প্রকৌশলীসহ বিমানের বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এবং অনেকে গ্রেফতারও হন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চোরাকারবারীরা বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিমানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করে। তাদের সহায়তায় বিমানের এমন সব স্থানে স্বর্ণ লুকানো হয়, যেগুলো সাধারণ তল্লাশিতে সহজে ধরা পড়ে না।
বিশেষ করে উড়োজাহাজের কার্গো হোলের প্যানেল বক্স, ওয়াশরুমের গোপন অংশ, কমোডের পাশের ফাঁকা স্থান, আয়নার পেছন এবং যাত্রী আসনের নিচের অংশ চোরাচালানের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয় বলে জানা গেছে। গোয়েন্দাদের মতে, কার্গো হোলের অন্তর্মুখী প্যানেল বক্স সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর একটি।
এই পরিস্থিতিতে চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েকটি জরুরি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজের সংবেদনশীল স্থানে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো, উড়োজাহাজ পরিষ্কারের সময় গোয়েন্দা উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সন্দেহভাজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, চোরাচালান চক্রটি আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।