পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হজযাত্রীরা। এ বছরের হজ শেষে প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী শনিবার (৩০ মে) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি-৫৮০৬ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে ৪১৯ জন হজযাত্রী ছিলেন, যারা সফলভাবে হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন।
হজযাত্রীদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ফিরতি হাজিদের অভ্যর্থনা জানান। যাত্রীদের দ্রুত ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম দিনের ফিরতি কার্যক্রমে মোট ১৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এসব ফ্লাইটে প্রায় ৫ হাজার ৪৩৪ জন হজযাত্রী বাংলাদেশে ফিরবেন। পর্যায়ক্রমে আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে অবশিষ্ট হজযাত্রীরাও দেশে ফিরবেন।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গেছেন। হজযাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। হজ মৌসুমে ফ্লাইট পরিচালনা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয় গত ১৭ এপ্রিল রাতে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর ধাপে ধাপে হাজার হাজার হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছান। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী বহনকারী শেষ ফ্লাইটটি গত ২১ মে সৌদি আরবে অবতরণ করে।
হজ শেষে এখন শুরু হয়েছে দেশে ফেরার পর্ব। দীর্ঘ ধর্মীয় সফর শেষে স্বজনদের কাছে ফিরে আসতে পেরে অনেক হজযাত্রী আনন্দ ও আবেগ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব হজযাত্রী নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন।