জাপান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ৪০ মিনিটের বেশি বিলম্বিত হয়েছে, কারণ এক কেবিন ক্রু সদস্য ডিউটির আগে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগে ধরা পড়েন। ঘটনার পর বিমান সংস্থাটি নতুন কঠোর নিয়ম চালু করেছে এবং রিটার্ন ফ্লাইটের মধ্যবর্তী অবস্থানের সময় কেবিন ক্রুদের জন্য অ্যালকোহল পান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
জাপানি গণমাধ্যম অ্যাভিয়েশন ওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মে হিরোশিমা থেকে টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল জাপান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট জেএল২৫২। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে উড্ডয়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি ছাড়ে সকাল ৮টা ২২ মিনিটে।
বিমানটিতে মোট ১৮৬ জন যাত্রী ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, এক নারী কেবিন ক্রু আগের রাতে কোম্পানির নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ করেছিলেন। জাপান এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, ডিউটির অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে থেকে অ্যালকোহল পান নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই ক্রু সদস্য এক সহকর্মীর সঙ্গে হোটেল লাউঞ্জে মদ্যপান করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি প্রথমে নিজে করা অ্যালকোহল পরীক্ষায় পজিটিভ ফল পেলেও সেটি জমা দেননি এবং পরে বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে বিমানবন্দরের অফিসে পুনরায় পরীক্ষা করলে আবারও তার শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
এরপর জাপান এয়ারলাইন্স তাকে ওই ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেয়নি এবং জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প কেবিন ক্রু নিয়োগ করে। এর ফলেই ফ্লাইট ছাড়তে ৪২ মিনিট দেরি হয়।
ঘটনার পর জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে তারা আরও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এখন থেকে রিটার্ন ফ্লাইটের মধ্যবর্তী বিরতির সময় কেবিন ক্রুদের অ্যালকোহল পান পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান এয়ারলাইন্সে অ্যালকোহল-সংক্রান্ত একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে শত শত যাত্রীর ফ্লাইট ১৮ ঘণ্টা বিলম্বিত করেছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালেও এক পাইলট ও কো-পাইলটের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপান গোপন করার অভিযোগ ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমান চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল সংক্রান্ত নিয়ম অত্যন্ত কঠোরভাবে মানা জরুরি। কারণ সামান্য অবহেলাও যাত্রী নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।