হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য আগামী জুলাই মাসে জাপানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, টার্মিনাল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে উভয় পক্ষ এখন সমঝোতার কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে।
প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি শেষ হলেও নানা কারণে এটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে জাপানের একটি কনসোর্টিয়াম। তবে পরিচালনা কাঠামো, আয় বণ্টন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পায়। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাপানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। মাত্র তিন মাসের ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত ১৭ মে জাপানি প্রতিষ্ঠানটির কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আগামী জুলাই মাসে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) পাঠানো হয়েছে এবং প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য ৪০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের বন্দর উন্নয়ন ফি, লাউঞ্জ সেবা, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং কার পার্কিং থেকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব থাকবে জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে। অন্যদিকে ওভার-ফ্লাইং চার্জ ও বিমান অবতরণ ফি আদায়ের দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) কাছে। এছাড়া কাস্টমস, নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে।
এদিকে টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আগ্রহ দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান মেনজিস এভিয়েশন, চেলেবি এভিয়েশন এবং ডানাটা। প্রতিমন্ত্রী জানান, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের আয় বৃদ্ধি—এই তিন বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই পরিচালন কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, চুক্তি সম্পন্ন হলে দ্রুতই থার্ড টার্মিনাল চালুর পথ সুগম হবে এবং দেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন যুগের সূচনা হবে।