রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের হালকা স্টেলথ যুদ্ধবিমান এসইউ-৭৫ ‘চেকমেট’ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিমানটি ভবিষ্যতে রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যার সম্ভাব্য বৈশ্বিক বাজার চাহিদা আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত হতে পারে।
ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন (ইউএসি)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন অনেক দেশ রয়েছে যারা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং সরবরাহ বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী। এসব দেশ মূলত কম খরচে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্রযুক্তি অর্জনের সুযোগ খুঁজছে, যেখানে এসইউ-৭৫ একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রাথমিকভাবে রাশিয়া এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে তৈরি করেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই প্রকল্পে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম। দেশটি আগে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করলেও রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শর্তের কারণে সেই চুক্তি এগোয়নি। ফলে তারা বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার চেকমেট প্রকল্পের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।
শুধু ক্রেতা হিসেবেই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই প্রকল্পে সহ-বিনিয়োগকারী হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কিছু অ্যাসেম্বলি প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
উত্তর আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি আলজেরিয়াও এসইউ-৭৫-এর সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটি তাদের পুরনো মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করছে এবং চেকমেটকে একটি কার্যকর ও আধুনিক বিকল্প হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে এসইউ-৩০এমকেএ বহরের সঙ্গে সমন্বয় করে এটি আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এছাড়া এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ, যেমন ভেনেজুয়েলা, পেরু, নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়া, সীমিত বাজেটে উন্নত যুদ্ধবিমান অর্জনের সম্ভাবনা হিসেবে এসইউ-৭৫-কে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
ভারতও ভবিষ্যতে এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারে বলে কিছু বিশ্লেষকের ধারণা। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় লাইসেন্স উৎপাদনের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে বিমান প্রযুক্তি সহযোগিতা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউএসি সম্প্রতি জানিয়েছে, এসইউ-৭৫ প্রকল্পটি বর্তমানে প্রোটোটাইপ উন্নয়নের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে এবং শিগগিরই প্রথম উড়ন্ত পরীক্ষার পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে। রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের মতে, এই প্রকল্প নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।