বিমানবন্দরে ১৫০ হাজির লাগেজ কাটার অভিযোগ

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরা হজযাত্রীদের লাগেজ কাটা এবং মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরা হজযাত্রীদের লাগেজ কাটা এবং মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আগত একটি হজ ফ্লাইটের প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করেন যে, তার বাবাসহ প্রায় ১৫০ জন হজযাত্রীর লাগেজ কাটা হয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ হজ ফ্লাইটে ৪১৯ জন হাজি দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক যাত্রী তাদের ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং কয়েকজন যাত্রী মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ করেন। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

অভিযোগের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিষয়টি নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করে। বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহম্মদের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ওর্ন ক্যামেরার ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট সকল অফিসিয়াল রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেদ্দা থেকে আসা বিশেষ ফ্লাইট বিজি-৩১০৪ রাত ২টা ৫২ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে লাগেজ খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। রাত ৩টা ৫ মিনিটে প্রথম ব্যাগ ডেলিভারি বেল্টে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং রাত ৩টা ৫১ মিনিটের মধ্যে মোট ৮৩৬টি লাগেজ যাত্রীদের জন্য সরবরাহ করা সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়া বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে অন্তত ২১টি লাগেজ সৌদি আরব থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বিমানবন্দরের হ্যান্ডলিং কর্মীদের কাছে আসে। এছাড়া লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কের রেকর্ডেও বড় ধরনের কোনো চুরি বা লাগেজ হারানোর অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কয়েকজন যাত্রী মৌখিকভাবে ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাগে জমজমের পানি, শ্যাম্পু, লোশন বা খেজুর বহনের বিষয়টি সামনে আসে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বিধিমালা অনুসারে বুকিং লাগেজে কিছু তরল পদার্থ ও নির্দিষ্ট সামগ্রী বহনে বিধিনিষেধ রয়েছে। জেদ্দা বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় এসব সামগ্রী শনাক্ত হলে নিরাপত্তা পরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লাগেজ খোলা হতে পারে। বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াকেই ভুলভাবে লাগেজ কেটে চুরির ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।

Comments (0)
Add Comment