লাগেজ কাটা, কিন্তু চুরির তথ্য নেই: বিমানের তদন্ত

হজযাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি

সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা হজযাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত অভ্যন্তরীণ তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক প্রতিবেদনে জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় ১৫০ জন হজযাত্রীর লাগেজ কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং সেখান থেকে মালামাল চুরি হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার ভোরে সৌদি আরব থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী বহনকারী বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণের পর। পরে মোস্তফা কামাল পলাশ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়, বিপুলসংখ্যক যাত্রীর লাগেজ কেটে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহকসেবা) শাহনুর আহমেদের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরের ভেতরে লাগেজ কেটে কোনো ধরনের চুরি বা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে—এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে বিমান থেকে নামানোর সময় প্রায় ২১টি লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় শনাক্ত করা হয়েছে।

তদন্তে দেখা যায়, যেসব যাত্রী তাদের লাগেজ কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন, তাদের অনেকেই চেক-ইন ব্যাগেজে জমজমের পানি এবং বিভিন্ন ধরনের তরল প্রসাধনী বহন করেছিলেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বহন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সঠিকভাবে প্যাকেটজাত না করা তরল পদার্থ বহনেও কড়াকড়ি রয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাগেজ খুলে নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত সামগ্রী জব্দ করে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমান আরও জানায়, বিমান থেকে ব্যাগেজ ডেলিভারি এলাকা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের বডি-ক্যামেরার ভিডিও এবং রানওয়ে ও ব্যাগেজ সর্টিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ২১টি ব্যাগ গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে পৌঁছানোর আগেই ওই অবস্থায় ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কাটা হয়েছিল—এমন দাবিরও সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন যাত্রী মৌখিকভাবে তাদের ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কোনো যাত্রী মূল্যবান জিনিস হারানোর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। ফলে বিমান কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাটি চুরির নয়; বরং সৌদি আরবের নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগের ফলেই কিছু লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।

Comments (0)
Add Comment