বোয়িংয়ের সঙ্গে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি হওয়ার পরও বাংলাদেশ বাজার থেকে সরে দাঁড়ায়নি ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বরং নতুন করে আকর্ষণীয় ছাড়, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক প্রস্তাব নিয়ে তারা আবারও বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক ফলোআপ চিঠিতে এয়ারবাস জানিয়েছে, তারা জুন মাসের মধ্যেই সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে চায়।
এয়ারবাসের লক্ষ্য হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ভবিষ্যতে এ৩২১নিও উড়োজাহাজ বিক্রি করা। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব অনুযায়ী চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ ২০৩৪ ও ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। প্রতিটি উড়োজাহাজের তালিকামূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে বিভিন্ন ধরনের ক্রয় প্রণোদনা ও বিশেষ ছাড় মিলিয়ে প্রায় ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে প্রতিটি উড়োজাহাজের সম্ভাব্য মূল্য কমে দাঁড়াবে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯৮১ কোটি টাকার সমান।
প্রস্তাবে আরও রয়েছে পাইলট ও প্রকৌশলীদের জন্য বড় প্রশিক্ষণ প্যাকেজ। চারটি উড়োজাহাজের জন্য ৪০ জন পাইলটকে বিদেশে টাইপ রেটিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকায় ১৮০ দিনের ফ্লাইং সুপারভিশন এবং প্রকৌশলীদের জন্য এক হাজার ট্রেইনি-ডে সুবিধাও রাখা হয়েছে।
তবে এয়ারবাস একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সমগোত্রীয় উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে অন্য কোনো নির্মাতার সঙ্গে আলোচনা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি না হলে অগ্রিম অর্থ বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধানও রয়েছে।
অন্যদিকে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বহরের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত না করে নতুন বিনিয়োগে গেলে ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে তারা মনে করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বহর নবায়ন অবশ্যম্ভাবী। তাই এয়ারবাস কিংবা বোয়িং— যে কোনো সিদ্ধান্তই পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক, কারিগরি ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত। এখন দেখার বিষয়, বৈশ্বিক দুই বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতার মধ্যে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত কোন দিকে যায়।