দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরের একেবারে পাশে বিপুল পরিমাণ বিমান জ্বালানি সংরক্ষণ করে পদ্মা অয়েল কোম্পানি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেখানে এখনো পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সেফটি প্ল্যান বা অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে যে কোনো দুর্ঘটনা বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত জ্বালানি ডিপোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জেট ফুয়েল সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হয়। অথচ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ পরিস্থিতিকে অনেকেই ‘টাইম বোমা’র সঙ্গে তুলনা করছেন।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিমানবাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এটিএম নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্বের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর খুব কাছাকাছি এমন বৃহৎ জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা সচরাচর রাখা হয় না। যদি রাখা হয়, তাহলে সেখানে অত্যাধুনিক ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে শুধু জ্বালানি ডিপো নয়, বিমানবন্দরের রানওয়ে, টার্মিনাল, উড়োজাহাজ এবং হাজারো যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
জানা গেছে, বেবিচকের কাছ থেকে লিজ নেওয়া জমিতে পদ্মা অয়েল এই স্থাপনা পরিচালনা করছে। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে পদ্মা অয়েল। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে আছে ফায়ার সেফটি প্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগ।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুধু জ্বালানি ডিপো নয়, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকাতেও অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি পাওয়া গেছে। পরিদর্শনে দেখা গেছে, পুরোনো কার্গো এলাকায় প্রয়োজনীয় ফায়ার ক্রু উপস্থিত নেই এবং কিছু স্থানে স্থায়ী ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবস্থাও অনুপস্থিত। এতে কোটি কোটি টাকার পণ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ অবস্থায় বেবিচক সারা দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। ধূমপান নিষিদ্ধ করা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, স্মোক ডিটেক্টর পরীক্ষা, সিসি ক্যামেরা নজরদারি জোরদার এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।