আওয়ামী সিন্ডিকেট এর চাপে বিমানে বাতিল হলো শাহনাজ বেগমের পদায়ন
বিশেষ প্রতিনিধি : সিভিল এভিয়েশন অব বাংলাদেশ (CAAB) ফাইন্ডিং নিষ্পত্তি করে চিফ পার্সার শাহনাজ বেগমকে ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অথচ আওয়ামীলীগ সমর্থিত কেবিন ক্রু ইউনিয়নের কতিপয় নেতার ভিত্তিহীন তথ্যের ভিত্তিতে পদায়ন বাতিল করতে নানা তদবির আসায় এবং তা যাচাই বাছাই না করেই অবশেষে বাতিল হলো সেই পদায়ন।
কেবিন ক্রু শাহনাজ এর পদায়ন বাতিল করার পর এভিয়েশন নিউজ এর সত্যতা উদঘাটনে নামে। মূলত সিভিল এভিয়েশনের ফাইন্ডিং শেষ করতে এই পদায়ন হয়। বিমানের কেবিন অপারেশন ম্যানুয়াল এর নির্দেশনা অনুযায়ী জানা যায় ফ্লাইট সার্ভিসে ডিজিএম পদটির জন্য কেবিন ক্রু চাকুরী কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, সেই সাথে ম্যানেজার হিসেবেও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ রয়েছে।
ফ্লাইট সার্ভিস সূত্রে জানা যায় যে, শাহনাজ বেগম বিমানের সবচেয়ে সিনিয়র কেবিন ক্রু। প্রায় ৩৭ বছরের কেবিন সেইফটি এবং সার্ভিসে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। চিপ পার্সার ব্রিফিং, ম্যানেজার প্লানিং & শিডিউলিং এবং বর্তমানে ব্যবস্থাপক ফ্লাইট সার্ভিস হিসেবে সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একাধিক কেবিন ক্রুর বক্তব্যে উঠে আসে যে, শাহনাজ বেগমের কঠোর অবস্থানের কারনে ফ্লাইট সার্ভিসে চোরা চালান, গোল্ড স্মাগলিং মানি লন্ডারিং এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এই সাথে অবৈধ কাপল ফ্লাইট এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, শিডিউলিং টেমপারিং করে আওয়ামী আমলের ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ এখন প্রায় অসম্ভব করে তুলেছেন এই শাহনাজ।
শাহনাজ বেগমের নামে মিথ্যা মামলা করিয়ে এখন তাকে হটানোর চেস্টায় অপকর্মে জড়িত ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে থাকা সেই আওয়ামীপন্থি কেবিন ক্রু ইউনিয়নের একটি সিন্ডিকেট ।
৫ ই আগস্ট ২০২৪ সালের বিকেল ৪ টায় যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ঘটনার ২০২৬ সালে মামলায় শাহনাজ বেগমকে মামলার ২০৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এমনকি তাকে লিঙ্গ পরিচয়ে পুরুষ হিসেবেও এজাহারে উল্লেখ করানো হয়েছে। অথচ এয়ারপোর্ট সার্ভারের তথ্য, ফ্লাইট লগ, জিডি, এফসিপি, ফ্লাইট সার্টিফিকেট ও ডিউটি রোস্টার যাচাই করে দেখা যায় যে, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পূর্বে অর্থাৎ ২৯ জুলাই ২০২৪ইং সালে শাহনাজ বেগম বিমানের কানাডা ফ্লাইটে দায়ীত্ব পালন করতে কেবিন ক্রু প্রধান হয়ে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং ১১ই আগস্ট ২০২৪ ইং তুরস্কের ইস্তাম্বুল ফ্লাইট নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করেন।
যদিও ইতোমধ্যে মিথ্যা ও হয়রানিমুলক এই মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য ডিএমপি কমিশনে ব্যবস্থা নিয়েছেন শাহনাজ বেগম। একাডেমিক সার্টিফিকেট বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে ভূল তথ্য দিয়েও বিভ্রান্ত করছে সেই চক্র।
সিন্ডিকেট এর চাপে অভিজ্ঞ এ বিমান কর্মীর বিরূদ্ধে এ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক অভিযোগে শাহনাজ বেগমের পদ পরিবর্তন নি:সন্দেহে বিমানের একটি খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে সেই সাথে নিষ্পত্তি করা ক্যাব ফাইন্ডিং বহাল থাকবে যা বার্ষিক এওসি তে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একাধিক বিমান কর্মীদের প্রত্যাশা শাহনাজ বেগম কে পূনরায় বহাল করে মিথ্যার অবসান ঘটিয়ে ফ্লাইট সার্ভিসের ডিজিএম পদ পূরন করে ক্যাব ফাইন্ডিং অচিরেই নিষ্পত্তি করবে বিমান সেই সাথে স্মাগলিং স্থায়ী বন্ধ হবে।