যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিমান টিকিট বিক্রিতে সিন্ডিকেট ও অনিয়ম বন্ধ করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ট্রাভেল এজেন্সি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, কারসাজি বা সিন্ডিকেট কার্যক্রমে জড়িত প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনও বাতিল করা হবে।
আফরোজা খানম বলেন, টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি টিকিটে ভাড়ার পরিমাণ, ট্রাভেল এজেন্সির নাম এবং লাইসেন্স নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে যাত্রীরা প্রকৃত ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রতারণার ঝুঁকি কমবে।
মন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য বিমান সংস্থা টিকিটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির দাম, পরিচালন ব্যয়, উড়োজাহাজের ধরন, ভ্রমণের তারিখ ও সময়, মৌসুমভেদে যাত্রীর চাপ, আসন প্রাপ্যতা, অগ্রিম বুকিং এবং সেবার মান।
তিনি বলেন, যাত্রী চাহিদা বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ভাড়া বৃদ্ধি পায়, আবার চাহিদা কমে গেলে ভাড়াও হ্রাস পায়। এটি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন শিল্পে প্রচলিত একটি ব্যবস্থা।
দেশীয় রুটে বিমান ভাড়ার ওঠানামার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ বিমান সংস্থা ‘রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ মডেল অনুসরণ করে। এই ব্যবস্থায় চাহিদা, বুকিংয়ের সময় এবং অন্যান্য পরিচালনাগত বিষয় বিবেচনায় টিকিটের মূল্য পরিবর্তিত হয়।
আফরোজা খানম আরও জানান, যাত্রীদের জন্য ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিয়মিত বিমান সংস্থা ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছে। এসব আলোচনায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, সেবার মান উন্নয়ন এবং বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট বা স্থির ভাড়া নির্ধারণ মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী ভাড়া নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমান টিকিটের বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রীরা অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির হাত থেকে আরও বেশি সুরক্ষা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।