বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে (বিএ) প্রতি বছর কোটি কোটি যাত্রী ভ্রমণ করেন। তবে আবহাওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, পরিচালনাগত সমস্যা কিংবা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে অনেক সময় ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য কী কী সুবিধা ও অধিকার রয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, কোনো ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের সামনে একাধিক বিকল্প থাকে। প্রথমত, অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই পরবর্তী উপলব্ধ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং করার সুযোগ দেওয়া হয়। যাত্রীরা ‘ম্যানেজ মাই বুকিং’ সেবার মাধ্যমে নিজেদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প ফ্লাইট নির্বাচন করতে পারেন।
যদি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপযুক্ত বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে না পারে, তাহলে যাত্রীরা বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্য কোনো এয়ারলাইনের ফ্লাইটে বুকিংয়ের অনুরোধ করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা করা যাবে।
এছাড়া, যাত্রী চাইলে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সম্পূর্ণ টিকিট মূল্য ফেরত নেওয়ার আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ, ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিলে টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে যদি পরবর্তী ফ্লাইট পরদিন ছাড়ে, তাহলে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে হোটেলে রাতযাপনের ব্যবস্থা করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যান্য সহায়তাও দেওয়া হতে পারে, যাতে যাত্রীরা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন।
বিমান সংস্থাটি যাত্রীদের পরামর্শ দিয়েছে, ফ্লাইট সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তনের খবর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে এবং ফ্লাইট বাতিলের নোটিশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ম্যানেজ মাই বুকিং’ ব্যবহার করে উপলব্ধ বিকল্পগুলো যাচাই করতে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে নতুন ফ্লাইট পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রীরা যদি তাদের অধিকার সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকেন, তাহলে ফ্লাইট বাতিলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও সহজেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। তাই ভ্রমণের আগে বিমান সংস্থার নীতিমালা সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের অসুবিধা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা এবং তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দ্রুত ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে যারা আর ভ্রমণ করতে চান না, তাদের জন্য দ্রুত অর্থ ফেরতের সুযোগও রাখা হয়েছে।