ইরানের আকাশসীমায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটের দেওয়া নতুন তথ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে ওই পাইলট এমন একদল ইরানি ড্রোন দেখেছেন, যেগুলো আকাশে জেলিফিশের মতো বিন্যাসে সমন্বিতভাবে উড়ছিল। এই দাবি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, কারণ এমন প্রযুক্তি বাস্তবে কার্যকর হলে তা ড্রোন যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়ার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ব্রিফিংয়ে পাইলট জানান, তিনি কয়েকটি ড্রোনকে এমনভাবে চলাচল করতে দেখেছেন যেন সেগুলো একটি একক সত্তা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় আকারের ড্রোনগুলোর নিচে ছোট ড্রোনগুলো এমনভাবে অবস্থান করছিল, যা দেখতে জেলিফিশের শুঁড়ের মতো মনে হচ্ছিল। ঘটনাটিকে তিনি অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেন। আরেকটি সূত্র জানায়, পাইলট পুরো দৃশ্যটিকে আকাশে ভাসমান একটি “ড্রোনের মাইনক্ষেত্র” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
ঘটনার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি কীভাবে ভূপাতিত হয়েছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সমন্বিত ড্রোন বহরটি বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিতে সাধারণত একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা থাকেন। দুর্ঘটনার পর পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হন। তবে অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তাকে ইরানি বাহিনীর নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময় পাহাড়ে আত্মগোপন করে থাকতে হয় এবং পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
তবে পাইলটের বর্ণনা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিবেচনা করছেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি মস্তিষ্কে কোনো ধরনের আঘাত পেয়েছিলেন কি না, যা তার পর্যবেক্ষণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যা দেখেছেন বলে দাবি করছেন, সে বিষয়ে তিনি কতটা নিশ্চিত।
ড্রোন যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান সত্যিই বহু ড্রোনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা উন্নত সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে একই বিন্যাসে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়ে থাকে, তবে তা ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তাদের মতে, বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এবং নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে ধারাবাহিক হামলা চালাতে পারে—এমন সমন্বিত ড্রোন নেটওয়ার্ক প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে। যদিও পাইলটের দাবি এবং ড্রোনগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে এখনো স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।