জাপানি শর্তে জটিলতা হলেও ডিসেম্বরে চালুর আশা তৃতীয় টার্মিনাল

তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চললেও পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে জাপানি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চললেও পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে জাপানি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। একের পর এক নতুন শর্ত উত্থাপনের কারণে নির্ধারিত সময়ে টার্মিনাল চালু হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও সরকার এখনো নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদী।

জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সরকারের একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন) তাদের কাছে ব্যবসায়িক চুক্তির প্রস্তাব বা রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) পাঠিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন নতুন শর্ত উত্থাপনের কারণে আলোচনা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। তার মতে, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে ডিসেম্বরেই তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হলে অক্টোবর মাসে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনাল বুঝে নেবে। এরপর পুরো নভেম্বর মাসজুড়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা ট্রায়াল পরিচালিত হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বরেই যাত্রীদের জন্য নতুন টার্মিনাল খুলে দেওয়া হবে।

চুক্তি সম্পন্ন হলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে বর্তমান টার্মিনাল-২ থেকে নতুন টার্মিনালে সব প্রযুক্তিগত কার্যক্রম, অপারেশনাল সিস্টেম এবং বিভিন্ন সেবা সফলভাবে স্থানান্তর করতে হবে। এই জটিল স্থানান্তর প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে শেষ করাই এখন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দিলেও নতুন টার্মিনাল চালুর পর সেই সক্ষমতা প্রায় ২ কোটি যাত্রীতে উন্নীত হবে। পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস পরিচালনার সুযোগ বাড়বে, যাত্রীসেবা উন্নত হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কার্গো পরিবহন ও রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্বমানের এই টার্মিনালে রয়েছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ১২৮টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার, ১৬টি লাগেজ বেল্ট, ৪০ হাজার বর্গমিটারের বহির্গমন লাউঞ্জ, ১ হাজার ২০০টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা এবং একই সময়ে ৩৪টি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের সক্ষমতা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সব জটিলতা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়েই চালু হলে তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা করবে।

Comments (0)
Add Comment