বিমান খাতে বড় বিনিয়োগ, ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৬ কোটি যাত্রীর লক্ষ্য

থাইল্যান্ড ২০৩৪ সালের মধ্যে বছরে ১৬ কোটি যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারপোর্টস অব থাইল্যান্ড (এওটি) হাতে নিয়েছে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনা।

থাইল্যান্ড ২০৩৪ সালের মধ্যে বছরে ১৬ কোটি যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারপোর্টস অব থাইল্যান্ড (এওটি) হাতে নিয়েছে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনা।

এওটির নতুন কৌশলগত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক দশকে দেশের ছয়টি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে যাত্রীসেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে থাইল্যান্ডের ছয়টি বিমানবন্দরে পাঁচ লাখ ৫২ হাজারের বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এওটি।

পরিকল্পনার আওতায় সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্বাংশে নতুন টার্মিনাল সম্প্রসারণ করা হবে, যার মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭ কোটিতে উন্নীত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হবে, যা ২০৩৩ সালে চালু হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল-৩ নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান টার্মিনাল আধুনিকায়ন করা হবে। চিয়াং মাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণ এবং ফুকেট বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ও এয়ারক্রাফট গেট সম্প্রসারণের কাজও পরিকল্পনায় রয়েছে।

এছাড়া সুবর্ণভূমি, ডন মুয়াং ও ফুকেট বিমানবন্দরে ২০০টির বেশি স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন মেশিন স্থাপন করা হবে। যাত্রীদের লাগেজ পরীক্ষায় থ্রিডি কম্পিউটেড টমোগ্রাফি এক্স-রে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিষিদ্ধ বস্তু শনাক্তকরণ প্রযুক্তিও চালু করা হবে। রানওয়েতে পাখি ও বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি কমাতে উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হবে।

বিমান চলাচল সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে অবতরণ, পার্কিং ও বোর্ডিং ফিতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় হোটেল, লজিস্টিক পার্ক, বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জিং কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক সুবিধা গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে টার্মিনাল ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং বিমানবন্দর পরিচালনায় ব্যবহৃত যানবাহন ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে এওটি। কর্তৃপক্ষের আশা, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে থাইল্যান্ড এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।

Comments (0)
Add Comment