ভারতে ১ জুলাই থেকে বিমান জ্বালানির (এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল–এটিএফ) দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির মূল্য পুনর্নির্ধারণের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানির দাম কমায় দেশটির বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পাবে, যার ইতিবাচক প্রভাব যাত্রীদের বিমান ভাড়ার ওপরও পড়তে পারে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার বিমান জ্বালানির দাম ১১৫ রুপি থেকে কমিয়ে ১১০ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ৫ রুপি কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কিলোলিটার এটিএফের মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার রুপি থেকে কমে ১ লাখ ১০ হাজার রুপিতে নেমে এসেছে।
তবে পেট্রোল ও ডিজেলের ক্ষেত্রে উৎপাদন শুল্ক অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সরকার শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রপ্তানি শুল্কে সংশোধন এনেছে এবং বিমান জ্বালানির মূল্য কমিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান সংস্থাগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানি কেনার পেছনে ব্যয় হয়। ফলে এটিএফের দাম কমলে এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন খরচও কমে যায়। এর ফলে ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে বিমান ভাড়া কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও ভাড়া কমানোর বিষয়ে এখনো কোনো বিমান সংস্থা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
গত ১৬ জুন সর্বশেষ বিমান জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এটিএফের মূল্যও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এবার জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা থেকে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোকে সুরক্ষা দিতে ভারত সরকার একটি ‘মূল্য স্থিতিশীলকরণ প্রকল্প’ চালু করেছে। এই প্রকল্পে অংশ নেওয়া বিমান সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য নির্দিষ্ট মূল্যে জ্বালানি কেনার সুযোগ পাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলেও তাদের পরিচালন ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ পড়বে না।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যারা এই প্রকল্পে স্বেচ্ছায় অংশ নেবে, তারা প্রতি লিটার জ্বালানির জন্য ১১৫ রুপি পরিশোধ করবে। অন্যদিকে, যারা এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবে, তাদের আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী জ্বালানি কিনতে হবে। বর্তমানে সেই বাজারমূল্য প্রতি লিটার প্রায় ১৪২ রুপি।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মূল্য স্থিতিশীলতার এই উদ্যোগ ভারতের বিমান পরিবহন খাতকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য ভবিষ্যতে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বিমান ভ্রমণের সুযোগও তৈরি হতে পারে।