শাহজালাল বিমানবন্দরে এয়ার এস্ট্রার জরুরি অবতরণ

চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পরপরই ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে।

চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পরপরই ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বিমানে থাকা ৭০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য নিরাপদে রয়েছেন। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পাইলটের দক্ষতায় উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এয়ার অ্যাস্ট্রার এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজটি নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বে, দুপুর ১২টার দিকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। আকাশে ওড়ার মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ফ্লাইটের পাইলট সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকায় ফিরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল জরুরি অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এরপর নিরাপদে উড়োজাহাজটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ঘটনার পর যাত্রীদের নিরাপদে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং এয়ার অ্যাস্ট্রার কর্মকর্তারা যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।

তবে উড়োজাহাজটির ইঞ্জিনে ঠিক কী ধরনের যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এয়ার অ্যাস্ট্রা কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা উড়োজাহাজটি পরীক্ষা করে ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এয়ার অ্যাস্ট্রা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে অন্য একটি উড়োজাহাজের মাধ্যমে সব যাত্রীকে নিরাপদে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। ফলে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হলেও যাত্রীদের যাত্রা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

বিমান চলাচলে যেকোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুসারে জরুরি অবতরণ একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং বিমানবন্দরের সমন্বিত প্রস্তুতির কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখন তদন্ত শেষে ইঞ্জিনের ত্রুটির প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments (0)
Add Comment