বংশালে অগ্নিকাণ্ডে যুবক নিহত, দগ্ধ আরও একজন

রাজধানীর বংশাল এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানীর বংশাল এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন তার খালাতো ভাই নাজমুল হোসেন (৩৩), যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার ভোররাতের এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানার মুকিম বাজার এলাকায় চুড়িওয়ালা পঞ্চায়েত কবরস্থানের বিপরীতে অবস্থিত একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নিহত দেলোয়ার হোসেন যশোরের শার্শা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি মুকিম বাজারে ‘বাইক পার্ক সেন্টার’ নামে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ পরিচালনা করতেন। ভবনটির তৃতীয় তলায় তিনি পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন। নিচতলায় ছিল তার ব্যবসায়িক গুদামঘর, যেখানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। তার খালাতো ভাই নাজমুলও একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

দেলোয়ারের গ্যারেজের কর্মচারী তুষার ইসলাম রিফাত জানান, ভোরে বিকট শব্দ শুনে দেলোয়ার ও নাজমুল নিচতলায় নেমে আসেন। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন নাজমুলকে দ্রুত বাইরে বের করে আনতে সক্ষম হলেও দেলোয়ার আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে যান। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

স্থানীয়দের ধারণা, নিচতলায় রাখা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। জানা গেছে, ওই সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে ভবনের উপরের তলায় রান্নার গ্যাস সরবরাহ করা হতো। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এদিকে নাজমুলের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের পরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments (0)
Add Comment