এমিরেটস স্কাইকার্গো তাদের বহরে প্রথমবারের মতো যাত্রীবাহী বিমান থেকে রূপান্তরিত একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআরএসএফ মালবাহী উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে। আগে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত এ বিমানটি এখন সম্পূর্ণভাবে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে এবং তুলনামূলক কম খরচে বহরের সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
এ৬-ইবিকে নিবন্ধনধারী উড়োজাহাজটি চলতি বছরের মার্চের পর এমিরেটস স্কাইকার্গোর বহরে যুক্ত হওয়া ষষ্ঠ নতুন মালবাহী বিমান। ৩০ জুন এটি দুবাই থেকে হংকংগামী ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্গো উড়োজাহাজ হিসেবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে।
এটি এমন পাঁচটি রূপান্তরিত বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআরএসএফের প্রথম, যা ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বহরে যুক্ত হবে। বর্তমানে সংস্থাটি ১৭টি কারখানায় নির্মিত বোয়িং ৭৭৭এফ পরিচালনা করছে। নতুন উড়োজাহাজটি ১০০ টন পর্যন্ত পণ্য বহন করতে পারে এবং এর কার্গো ধারণক্ষমতা ৮১১ ঘনমিটার, যা প্রচলিত ৭৭৭এফের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।
রূপান্তরের সময় বিমানের আসন, ওভারহেড বিন, রান্নাঘর ও শৌচাগারসহ সব যাত্রীসেবা অবকাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়। পরে অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্তিশালী করে কার্গো প্যালেট বহনের উপযোগী করা হয়। মূল ডেকে বড় কার্গো দরজা, উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ও ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, শক্তিশালী মেঝে এবং আধুনিক কার্গো লোডিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রুদের বিশ্রামাগার ও অতিরিক্ত আসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এমিরেটস স্কাইকার্গোর কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ায় তাদের বৈশ্বিক কার্গো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ আরও গতিশীল হবে। চলতি বছরের শুরুতে যেখানে তাদের কার্গো গন্তব্য ছিল ৪০টির কিছু বেশি, বর্তমানে তা বেড়ে ৬২টিতে পৌঁছেছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের মধ্যে আরও চারটি রূপান্তরিত ৭৭৭-৩০০ইআরএসএফ এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পাঁচটি নতুন বোয়িং ৭৭৭এফ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এমিরেটসের মতে, এই সম্প্রসারণের ফলে গ্রাহকদের জন্য আরও বেশি পরিবহন সক্ষমতা, নমনীয়তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে উন্নত সংযোগ নিশ্চিত হবে।