হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই অবস্থিত বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, যানজট, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং অপর্যাপ্ত যাত্রীসেবার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় স্টেশনটিকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীবান্ধব টার্মিনালে রূপান্তরের দাবি জোরালো হচ্ছে।
সরেজমিনে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই, যাত্রীদের চলাচলের পথও অনেক জায়গায় সংকীর্ণ। স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানের কারণে প্রায় সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে। এতে ট্রেন থেকে নামা বা ট্রেনে ওঠা যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
বিদেশফেরত যাত্রী আরিফ হোসেন বলেন, বিমানবন্দর থেকে ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিনি প্রায়ই এই স্টেশন ব্যবহার করেন। কিন্তু স্টেশনের পরিবেশ, অপরিচ্ছন্নতা এবং দালালদের উৎপাত তাঁকে হতাশ করে। তাঁর মতে, বিদেশি পর্যটক বা বিনিয়োগকারীরা যদি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেলস্টেশন দেখেন, তাহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরেক যাত্রী শায়লা পারভীন জানান, ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন এলাকা থেকে বের হওয়াটাই অনেক সময় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নির্দিষ্ট পিকআপ ও ড্রপ-অফ জোন না থাকায় যাত্রীদের বিশৃঙ্খলার মধ্যে চলাচল করতে হয়। তিনি স্টেশন এলাকায় পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান।
বাংলাদেশ রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, স্টেশনের অবকাঠামো সংস্কার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যাত্রীসেবা আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, স্টেশনটি রেলওয়ের অধীনে থাকলেও এটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ায় দুই সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিমানবন্দরের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশাপাশি স্টেশন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু উন্নয়নের আশ্বাস নয়, এখন প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়ন। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল তথ্যবোর্ড, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, দালালমুক্ত স্টেশন এবং যাত্রীবান্ধব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন দেশের একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পরিবহন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে যেমন যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, তেমনি দেশের ভাবমূর্তিও আরও উজ্জ্বল হবে।