ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ৩৫ ও একাধিক ফ্লাইট বাতিল

তেহরান, ১৬ জুলাই: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তেহরান, ১৬ জুলাই: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত কয়েকদিন ধরে চলা এসব হামলায় বন্দর আব্বাস, চাবাহারসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনা। তবে বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ইরান ও তাদের মিত্ররা বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ও একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা ইরান থেকে ছোড়া ২০টির বেশি ড্রোন এবং চারটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এয়ার কানাডা, এয়ার ফ্রান্স ও এজিয়ান এয়ারলাইন্স দুবাই, রিয়াদ, বৈরুত ও তেল আবিবগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল বা সাময়িক স্থগিত করেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করছে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স। এতে যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ফ্লাইট দীর্ঘপথে পরিচালিত হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী হলেও তাদের আগে উত্তেজনা কমাতে হবে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখার সুযোগ নেই এবং বর্তমান অবস্থায় নতুন কোনো সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান, রাশিয়া ও নাইজেরিয়ার কয়েকজন ব্যক্তি এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলও জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর বিশ্বজুড়ে নজর রাখছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।

Comments (0)
Add Comment