আবহাওয়া রাডার বিকল, ৭ ঘণ্টা পর ফিরল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এ৩৮০

আবহাওয়া রাডারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় সাত ঘণ্টা আকাশে উড়ে গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে এসেছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস এ৩৮০।

আবহাওয়া রাডারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় সাত ঘণ্টা আকাশে উড়ে গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে এসেছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস এ৩৮০। ৮ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের হিথ্রোর উদ্দেশে উড্ডয়ন করা ফ্লাইট BA54-কে শেষ পর্যন্ত জোহানেসবার্গেই ফিরে যেতে হয়।

ফ্লাইটটি জোহানেসবার্গ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের পরপরই বিমানের আবহাওয়া রাডারে সতর্কবার্তা দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর সতর্কবার্তাটি চলে গেলেও রাডার স্ক্রিনে ঘন ‘নয়েজ’ বা অস্পষ্ট সংকেত দেখা দিতে থাকে। ফলে রাডারটি কার্যকরভাবে বৃষ্টিপাত, বরফ, ঝড় বা অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারছিল না।

বিমানটির ক্রুরা ত্রুটি সমাধানের চেষ্টা করেন এবং ব্যাকআপ ব্যবস্থাও ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। তবে বিকল্প রাডার ব্যবস্থাটিও কার্যকর না থাকায় শেষ পর্যন্ত গন্তব্যের দিকে যাত্রা চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ মনে করেননি পাইলটরা। এরপর বিমানটিকে জোহানেসবার্গে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফ্লাইটটি মধ্য আফ্রিকার আকাশসীমা, এমনকি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ওপর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় উড্ডয়নের পর এ৩৮০-এর অতিরিক্ত ওজন কমাতে জ্বালানি ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনে আরও কিছু সময় আকাশে চক্কর দিয়ে বিমানের ওজন কমানোর কথাও ক্রুদের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

আবহাওয়া রাডার দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম। বিশেষ করে মধ্য আফ্রিকার মতো অঞ্চলে দ্রুত সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী বজ্রঝড়ের মধ্যে রাডার ছাড়া নিরাপদে উড্ডয়ন চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এ৩৮০ ঘণ্টায় প্রায় ৯০৮ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। ফলে তীব্র বজ্রঝড় বা কনভেকটিভ টার্বুলেন্সের মধ্যে প্রবেশ করলে যাত্রী ও বিমানের কাঠামো উভয়ই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

শুধু উড্ডয়ন নয়, অবতরণের সময়ও আবহাওয়া রাডার গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন হিথ্রোর মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরে ভারী বৃষ্টির কারণে মাইক্রোবার্স্ট বা তীব্র নিম্নমুখী বায়ুপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিমানের গতি ও লিফট দ্রুত কমে গিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিমানের নাকে থাকা আবহাওয়া রাডার রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে বৃষ্টির ফোঁটা ও বরফের কণার অবস্থান শনাক্ত করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও উইন্ড শিয়ারের মতো সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে পাইলটদের সতর্ক হতে সহায়তা করে।

যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ যাত্রা শেষে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা দুর্ভোগের হলেও, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে BA54-এর ক্রুদের জোহানেসবার্গে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment