ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির তান সন নাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনায় ড্রোনের উপস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিমানবন্দরের উড্ডয়ন ও অবতরণ এলাকার কাছাকাছি একাধিক ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় দুই দফায় সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে বেশ কয়েকটি বিমান নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি।
ভিয়েতনামপ্লাসের ১২ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় পাইলটরা ফ্লাইট পরিচালনা এলাকার কাছে ড্রোন দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর বিমানবন্দরের আকাশপথে চলাচলকারী উড়োজাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন অনুপ্রবেশের কারণে অনেক বিমান তান সন নাত বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি। এসব উড়োজাহাজকে অপেক্ষা করতে অথবা বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এতে বিমান চলাচলের স্বাভাবিক সূচিতে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বিমানবন্দরের মতো ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে রানওয়ে বা ফ্লাইট অপারেশন এলাকার কাছে ড্রোন চলে এলে উড়োজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এতে যাত্রী, ক্রু এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তান সন নাত ভিয়েতনামের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখান থেকে পরিচালিত হয়। ফলে বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন শনাক্ত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি ফ্লাইটের জন্য নয়, পুরো বিমান চলাচল ব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগের বিষয়।
ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর দুই দফায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর ফ্লাইট কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন পরিচালনার বিষয়ে ভিয়েতনামে বিদ্যমান নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের রানওয়ে ও অ্যাপ্রোচ এলাকার কাছে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তান সন নাত বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, আধুনিক বিমান চলাচলের জন্য ড্রোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।