হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে দুই যাত্রীর কাছ থেকে শুল্কমুক্ত সীমার অতিরিক্ত ৮১ দশমিক ৫০ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর (সিআইআইডি)। জব্দ করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ তথ্য জানায়। সিআইআইডি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের এ-শিফটের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থান নেন। এ সময় সন্দেহভাজন যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয়।
প্রথম অভিযানে দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ইকে৫৮৪ ফ্লাইটের যাত্রী রোমান মিখাইলভ গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তার সব ব্যাগেজ স্ক্যান করা হয়। পরে বিস্তারিত তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যাগ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৭৮ দশমিক ৫০ লিটার বিদেশি মদ পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীটি বিদেশি পাসপোর্টধারী হওয়ায় প্রযোজ্য ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী এক লিটার বিদেশি মদ শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী অনুমোদিত এক লিটার বাদ দিয়ে অতিরিক্ত ৭৭ দশমিক ৫০ লিটার মদ জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে৭১২ ফ্লাইটে আসা যাত্রী সামিউল ইসলাম গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তার ব্যাগেজও স্ক্যান করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আরও চার লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত হওয়ায় ওই মদও আটক করা হয়।
সিআইআইডির হিসাব অনুযায়ী, দুই ঘটনায় অনুমোদিত এক লিটার বাদ দিয়ে মোট ৮১ দশমিক ৫০ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানিয়েছে, চোরাচালান এবং ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন তথ্য সংগ্রহ, যাত্রীদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ব্যাগেজ স্ক্যানিং এবং নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহজনক পণ্য শনাক্ত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার রোধে বিমানবন্দরে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পণ্য বা অনুমোদনবহির্ভূত সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহজালাল বিমানবন্দরকে চোরাচালানমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।